মালদা, নিউজ ডেস্ক: হঠাৎ করেই বদলে গেল রেল চলাচলের চিত্র। কোথাও যাত্রা শুরু হওয়ার আগে বাতিল, কোথাও আবার নির্ধারিত পথ ছেড়ে ঘুর পথে চলবে ট্রেন। এমনকি, কোনও কোনও ট্রেনের গন্তব্য কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আচমকা এমন পরিবর্তনে যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে খোঁজ করতেই সামনে এসেছে গঙ্গার তীরবর্তী একটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি।
গঙ্গার বাঁধের ভাঙন এবার রেললাইন ঘেঁষা এলাকায়। মালদা ডিভিশনের সাহিবগঞ্জ–বারহারওয়া শাখায় গঙ্গার বাঁধের ভাঙ্গন মোকাবিলায় কাজ শুরু হওয়ায় রেল পরিষেবায় এই পরিবর্তন করা হয়েছে। সাকরিগলি ও মহারাজপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় রেল লাইনের কাছাকাছি গঙ্গার বাঁধ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। এর জেরে কাজ চলাকালীন ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে পূর্ব রেল। পাশাপাশি, কয়েকটি ট্রেনের রুট পরিবর্তন এবং দুটি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করেছে পূর্ব রেল।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বরের ৬৩০৭৩ রামপুরহাট–সাহিবগঞ্জ ও ৬৩৪০৬ সাহিবগঞ্জ–রামপুরহাট মেমু বাতিল করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরও রেল পরিষেবায় প্রভাব পড়বে। ঐদিন ৬৩০৭৪ সাহিবগঞ্জ–রামপুরহাট মেমু বাতিল থাকবে এবং ১৩৪২৮ সাহিবগঞ্জ–হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসও বাতিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র ট্রেন বাতিলই নয়, কয়েকটি ট্রেনের গতিপথও বদলে দেওয়া হয়েছে। ১৩০২৪, ১৩৪০৪ ও ১৩০৭২ নম্বর ট্রেনকে নির্ধারিত পথের পরিবর্তে ভাগলপুর–দুমকা–রামপুরহাট রুটে ঘুরিয়ে চালানো হবে। ফলে, ওই ট্রেন গুলির যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের পাশাপাশি, পরিবর্তিত রুটের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। অন্যদিকে ১৫৬৫৭ ও ১৫৭৪৪ নম্বর ট্রেন চলবে জামালপুর–মুঙ্গের–কাটিহার হয়ে। অর্থাৎ স্বাভাবিক রুটের পরিবর্তে বিকল্প পথেই গন্তব্যের দিকে এগোবে ট্রেনগুলি। এছাড়াও ১৩৪১০ কিউল–মালদা টাউন এক্সপ্রেসের যাত্রা পথও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রেনটি মালদা টাউন পর্যন্ত না গিয়ে পরিবর্তে সাহিবগঞ্জ পর্যন্ত যাত্রা রাখবে বলে রেল সূত্রে খবর। যাত্রীদের যাত্রার আগে ট্রেনের সর্বশেষ স্ট্যাটাস যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
গঙ্গার বাঁধের ভাঙ্গন এবং তার জেরে রেল লাইনের কাছাকাছি শুরু হওয়া কাজকে কেন্দ্র করে আপাতত সর্তকতা মূলক পদক্ষেপ হিসেবেই ট্রেন পরিষেবায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রেল কর্তৃপক্ষ। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলের স্বাভাবিক পরিষেবা ফেরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাত্রীদের উদ্দেশ্যে রেলের পরামর্শ যাত্রা শুরু করার আগেই সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সর্বশেষ স্ট্যাটাস অবশ্যই যাচাই করে নিতে হবে। এতে করে শেষ মুহূর্তে বাতিল বা রুট পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া সমস্যা কিছুটা হলেও এড়ানো সম্ভব হবে।
