বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ইরানকে ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ দেওয়া দেশগুলিকে এ বার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে আর্থিক বা বাণিজ্যিকভাবে সাহায্য করলে সংশ্লিষ্ট দেশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসাকে বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার জেরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা ভারতের রফতানিতে কি তার প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ধাক্কা আসতে পারে বিশেষ করে ইরানের বাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ভারতীয় সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে। তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড়সড় অভিঘাতের আশঙ্কা আপাতত কম।
ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য গত কয়েক বছরে অনেকটাই কমেছে। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইরানে ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.২৫ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ইরান থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রায় ৮৮০ মিলিয়ন ডলার। অথচ ২০১৮-১৯ সালে দু’দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৭.০৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা নেমে দাঁড়ায় মাত্র ১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে। ফলে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আরও কড়া হলে ভারতের ইরান-নির্ভর বাণিজ্যে ধাক্কা লাগলেও তার পরিধি সীমিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ইরানের বাজারে ভারতীয় পণ্যের মধ্যে বাসমতি চাল, চা, চিনি, তাজা ফল, ওষুধ ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উল্লেখযোগ্য। মশলা, শস্য-সহ একাধিক পণ্যও রফতানি করে ভারত। অন্য দিকে ইরান থেকে ভারতে আসে পেস্তা, খেজুর, আপেল, কিউই-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য। ফলে আমেরিকার চাপ বাড়লে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার চেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে লেনদেন, জাহাজ চলাচল এবং পরিবহণ খরচে। হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা ইতিমধ্যেই পণ্য পরিবহণে চাপ বাড়িয়েছে। ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা ভারতীয় সংস্থাগুলিকে বাড়তি খরচ এবং পেমেন্ট-সংক্রান্ত জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।
তবে ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গাও রয়েছে। জুলাইয়ে দেশের পণ্য রফতানি বেড়ে রেকর্ড ৪৪.২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৯.৬ শতাংশ বেশি। ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স-সহ একাধিক ক্ষেত্রেও রফতানি বেড়েছে। আমেরিকা, চিন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা-সহ বিভিন্ন বাজারে ভারতের রফতানি বাড়ছে। অর্থাৎ একটি বাজারে সমস্যা তৈরি হলে অন্য বাজারে পা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে ইরানমুখী ভারতীয় রফতানিকারকদের চাপ বাড়লেও, আপাতত গোটা ভারতীয় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।