বীরভূম, নিউজ ডেস্ক: ‘পাথর সম্রাট’টুলু মণ্ডলের ঘটনায় গ্রেফতার আরও দু’জন। বীরভূম জেলা পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল বিশ্বজিৎ সাহা ও কউসর আলি। ধৃত বিশ্বজিৎ সাহা একজন সরকারি কর্মচারী। স্থানীয় BLRO অফিসে ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত তিনি। অন্যজন কউসর আলি টুলুর সিন্ডিকেটের সদস্য। তাদের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডলকে ঘিরে পাথর ব্যবসা এবং সিন্ডিকেট সংক্রান্ত তদন্ত চালাচ্ছে বীরভূম জেলা পুলিশ। সেই তদন্তেই এবার বিশ্বজিৎ সাহা ও কউসর আলির নাম উঠে আসে। দুই ধৃতকে জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, সেই তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্ত যত এগোবে, আরও নাম সামনে আসতে পারে বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।
বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। মিনারকে গ্রেফতার করলেও টুলুকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। তাঁর অনেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে রক্ষাকবচ চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলা করেছিলেন টুলু। পরে গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে গিয়েছিলেন। একটি বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপতি চন্দ সেই মামলা ছেড়ে দেন। টুলু মণ্ডলের করা সেই মামলাই খারিজ করে দিল আদালত৷
এই পরিস্থিতিতে গ্রেফতারি এড়াতে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত। তাঁর আইনজীবীর তরফে আদালতে রক্ষাকবচের আবেদন জানানো হয়। তবে শুনানি শেষে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। শুনানির পর আদালত স্পষ্ট করে দেয়, টুলু মণ্ডলকে এই মামলায় আপাতত কোনও আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর দায়ের করা মামলাটিও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকা অবস্থায় টুলু মণ্ডলের সামনে আইনি পরিস্থিতি আরও কঠিন হল বলেই মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি, বীরভূমের পলাতক ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের আত্মীয়-সহ তিন জনকে আটক করল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁদের গাড়িতে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা এবং নগদ অর্থ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ওই গাড়িতে ছিলেন টুলুর শ্যালক সামসুল আলম ওরফে মিন্টুর ম্যানেজার নয়ন শেখ, মিন্টুর শ্যালক শেখ শান্ত ও গাড়ির চালক। সেই সূত্র ধরে সোমবার বিকেলে টুলুর শ্বশুরবাড়িতেও অভিযান চলে। টুলুর হদিশ পেতেই তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ। টুলু মণ্ডলের খোঁজে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে ঘনিষ্ঠদের নাম।
