শাসক দলের অন্দরেই তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো এবং সহ-সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে কার্যত নেতৃত্ব বদলের ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসেরই ২৪ জন জেলা পরিষদ সদস্য-সদস্যা। ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহল। শুক্রবার মেদিনীপুর ডিভিশনাল কমিশনারের দফতরে গিয়ে অনাস্থা সংক্রান্ত চিঠিতে সই করে তা জমা দেন ওই ২৪ জন সদস্য। জেলা পরিষদের বর্তমান বোর্ডে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল ভাবে তৈরি হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখছে না।
সম্প্রতি জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে দলেরই ২৪ জন সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাবে সই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জেলা পরিষদের যে সমস্ত সদস্যরা এই অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন তারা কেউ বিজেপির সদস্য নয়। সকলেই তৃণমূলের সদস্য। অর্থাৎ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ থেকেই এই অনাস্থার উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের নতুন নেতৃত্বের পথ তৈরি হচ্ছে শুরু হয়েছে জল্পনা। আগামী দিনে জেলা পরিষদের দায়িত্ব কোন দিকে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের মোট ৪৫ টি আসনের মধ্যে ৪২ টি আসন জিতে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৩ টি আসন। তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য প্রতুল মাহাতোর মৃত্যুর পর শাসকদলের সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪১ জন। বিজেপির সদস্য সংখ্যা ৩ জন।