আমেরিকার অ্যারিজ়োনায় মাঝ-আকাশে বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল দু’টি যাত্রিবাহী বিমান। একই সময়ে একই ফ্লাইট নম্বর ও কলসাইন ব্যবহার করায় দুই বিমান একে অপরের কাছাকাছি চলে এসেছিল। পাইলট এবং এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
স্থানীয় সময় শুক্রবার মাঝরাতে ঘটনাটি ঘটে। সূত্রের খবর, আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ২৪৮২ নম্বরের দু’টি বিমান এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। একটি বিমান ফিনিক্স বিমানবন্দর থেকে শিকাগোর উদ্দেশে উড়েছিল। অন্য বিমানটি শিকাগো থেকে ফিনিক্সে অবতরণের জন্য এগিয়ে আসছিল।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে শিকাগো থেকে আসা বিমানটির অবতরণে দেরি হয়। ফলে সেটি তখনও আকাশে থাকা অবস্থাতেই ফিনিক্স বিমানবন্দর থেকে একই কলসাইনের অন্য বিমানটিকে উড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বিমানটি রানওয়ে ছেড়ে আকাশে ওঠার সময়ই একই পথ ধরে অবতরণের জন্য এগিয়ে আসছিল শিকাগোফেরত বিমানটি।
বিষয়টি এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের নজরে আসতেই দ্রুত দুই বিমানের পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শিকাগো থেকে আসা বিমানটির পাইলটকে সতর্ক করে নির্দিষ্ট উচ্চতায় বিমানটি নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্য দিকে, ফিনিক্স থেকে সদ্য উড়ে যাওয়া বিমানটির পাইলটকে তিনি যে উচ্চতায় যাচ্ছিলেন, সেই উচ্চতাই বজায় রাখতে বলা হয়।
সময়মতো নির্দেশ পৌঁছে যাওয়ায় দুই বিমানের গতিপথ আলাদা করা সম্ভব হয়। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। বিমানে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, একই সময়ে দু’টি বিমানের ক্ষেত্রে একই ফ্লাইট নম্বর এবং কলসাইন ব্যবহারের কারণেই বিভ্রান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সাধারণত একটি বিমানের পরিচয় শনাক্ত করতে ফ্লাইট নম্বর ও কলসাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই একই পরিচয় ব্যবহৃত হলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পাইলট এবং এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের দ্রুত সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বড় বিপদ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মাঝ-আকাশে দুই বিমানের এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।