দেশে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কেন্দ্রীয় উদ্যোগ ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যেই ফের স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করী। ই২০ জ্বালানি (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল) ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে বলে যে প্রচার চলছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইথানল ব্যবসায় তাঁর পরিবারের অংশীদারিত্ব নিয়ে ওঠা অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে গড়করী বলেন, ই২০ জ্বালানিকে ঘিরে ভুল তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, এটি তুলনামূলকভাবে কম খরচের জ্বালানিও। তবে যাঁদের এই জ্বালানির উপর আস্থা নেই, তাঁরা চাইলে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল ব্যবহার করতে পারেন। যদিও সেই ক্ষেত্রে বেশি দাম গুনতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ইথানল ব্যবসা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে গড়করী জানান, তাঁর ছেলেরা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার মধ্যে ইথানল ব্যবসার অংশ খুবই সীমিত। তিনি বলেন, ই২০ প্রকল্প বা ইথানল মিশ্রণের নীতি নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এবং জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ফলে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যবসার কোনও সম্পর্ক নেই।
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, তাঁর ছেলেদের মোট ব্যবসার মাত্র ১০ শতাংশ ইথানল-সংক্রান্ত। দেশের সামগ্রিক ইথানল শিল্পে তাদের অংশীদারিত্ব মাত্র ০.৫ শতাংশ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তথ্য বিকৃত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
এদিকে, ই২০ জ্বালানি নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো এবং গড়করীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে চার জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সরের বিরুদ্ধে নাগপুর সাইবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ইউটিউবার তথা জন সুরাজ পার্টির নেতা মণীশ কশ্যপ। স্থানীয় বিজেপি নেতা শিশির ত্রিপাঠীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে পেট্রলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই ভবিষ্যতে পেট্রলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সেই ব্যবস্থা এখনও কার্যকর হয়নি।
এরই মধ্যে ই২০ জ্বালানি ব্যবহার করে গাড়ির মাইলেজ কমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই প্রসঙ্গে গড়করীর বক্তব্য, সাধারণ চালকের পক্ষে বৈজ্ঞানিকভাবে মাইলেজ পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়ে অনুমোদিত সংস্থা বা ডিলারদের পরীক্ষার ফলাফলের উপরই ভরসা করা উচিত। তাঁর দাবি, ই২০ নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানোর বদলে তথ্যভিত্তিক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।