কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ‘ঝোলা উঠিয়ে বিদায় নিন, গো জ্ঞান গো!’ মুখে স্লোগান তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামছেন গায়ক বিশাল দাদলানি। শুক্রবার মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এ যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। শুধু সমর্থন জানানোই নয়, আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়ার ডাকও দিয়েছেন জনপ্রিয় এই গায়ক। শুক্রবার ঠিক বিকেল ৪টেয় শিবাজি পার্কের ৬ নম্বর গেট থেকে শুরু হওয়ার কথা এই প্রতিবাদের। সিজেপির তরফে সমাজমাধ্যমে বিশালের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে ‘গো জ্ঞান গো’ স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছে। কখনও তিনি বলছেন, ‘জোরে বলো, গো জ্ঞান গো’, কখনও আবার ‘সবাই মিলে বলো, গো জ্ঞান গো’। ভিডিয়োর শেষ দিকে তাঁর মুখে শোনা যায়, ‘ঝোলা উঠিয়ে নিন, গো জ্ঞান গো।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিশালের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছেন। তাই তাঁকে পদ ছাড়তে হবে।
শুধু মুম্বইয়ে নয়, দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ককরোচরা। শুক্রবার শিবাজি পার্ক থেকে সেই আন্দোলনের সূচনা হবে বলে জানিয়েছেন দলের মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর দাবি, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার বিপন্ন। সেই অধিকার রক্ষার দাবিতেই পথে নামতে চলেছেন তরুণ প্রজন্মের একাংশ। এক নামী সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌরভ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রচার এবং আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও তাতে প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। তাঁর অভিযোগ, দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা তরুণদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলে সমাজে পরিবর্তন আনার শেষ অস্ত্রটুকুও মানুষের হাতছাড়া হয়ে যাবে। তাই নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তরুণ প্রজন্ম। সিজেপির দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
https://x.com/TimesNow/status/2105669538180120635
ককরোচ আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকেও নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। জেন জি-র তরুণদের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থেকে সরানো যাবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি। দীপকের দাবি, তরুণদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আপসের কোনও জায়গা নেই। একই সঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তার বদলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্ত এবং হিসাবের উপর নির্ভর করেই বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনে জয় পাচ্ছে। এমনকি যে রাজ্যগুলিতে মোদীও জয় পাননি, সেখানেও বিজেপি আসন পেয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও তথ্য উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে।
সিজেপির নেতাদের বক্তব্য, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। তাদের দাবি, নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং ভোটদানের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। সেই দাবিতেই মুম্বই থেকে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, শিবাজি পার্কের কর্মসূচির পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন নিয়ে যাওয়া হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখেই চলবে এই কর্মসূচি। শুক্রবারের আন্দোলনে বিশাল দাদলানির যোগদানের ঘোষণায় কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে আন্দোলন কতটা বিস্তৃত হবে এবং আগামী দিনে তা কোন পথে এগোবে, সে দিকেই নজর থাকবে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে কমিশনের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
Tags:
