চোট যে ক্রিকেটেরই অঙ্গ, তা মেনে নিয়েই নীতীশ কুমার রেড্ডির ওয়ার্কলোড সামলানোর উপর জোর দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এমনটাই জানালেন জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি তথা বেঙ্গালুরুর বোর্ডের ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’-এর প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ক্রিকেটার চোটে পড়ায় উদ্বেগ বেড়েছে ভারতীয় শিবিরে। সেই পরিস্থিতিতে রবিবার লক্ষ্মণের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। পুনর্বাসন এবং চোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়েছে সেই বৈঠকে।
নীতীশকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লক্ষ্মণ বলেন, অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর উপর বাড়তি চাপ থাকে। ফলে ম্যাচের মাঝে পাওয়া ছোট ছোট বিরতিকেও কী ভাবে কাজে লাগিয়ে ফিটনেস ধরে রাখা যায়, তা ক্রিকেটারদের শেখানো হচ্ছে। লক্ষ্মণের কথায়, "এখন আর আগের মতো দীর্ঘ ‘অফ-সিজন’ নেই। আইপিএল, রাজ্য দলের ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ, পর পর খেলে যেতে হয় ক্রিকেটারদের। তাই খেলার মধ্যেই শরীরকে কীভাবে প্রস্তুত রাখা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।" বাঁ উরুর কোয়াড্রিসেপে চোট পাওয়ায় আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং জিম্বাবোয়ে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন নীতীশ।
লক্ষ্মণ আরও জানান, চোটের সময়ে ক্রিকেটারদের মানসিক দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে। তাঁর মতে, খেলোয়াড়কে বুঝতে হবে নিজের চোটের পরিস্থিতি এবং দ্রুত মাঠে ফিরতে কী কী করতে হবে। নীতীশের ক্ষেত্রেও সেই ভাবেই আলোচনা চলছে। লক্ষ্মণ বলেন, ‘‘চোট খেলারই অঙ্গ।’’ তবে একই সঙ্গে অলরাউন্ডার হিসাবে বাড়তি ওয়ার্কলোড কী ভাবে সামলানো যায়, তা নীতীশকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু নীতীশ নন, এই প্রক্রিয়া সব ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
নতুন মরশুম শুরুর আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষার উপরও জোর দিয়েছেন লক্ষ্মণ। চুক্তিবদ্ধ এবং নজরে থাকা ক্রিকেটারদের একাধিক ফিটনেস পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। সেই পরীক্ষায় এ বার যোগ হয়েছে নতুন ‘ব্রঙ্কো টেস্ট’, যা জাতীয় দলের শক্তি ও কন্ডিশনিং কোচ অ্যাড্রিয়ান ল্য রু-র উদ্যোগে চালু হয়েছে। লক্ষ্মণের মতে, মরসুমের শুরুতেই ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতার বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করে নেওয়া এবং পরে ম্যাচের মধ্যেও ফিটনেস ধরে রাখাই চোটের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম পথ।