কলকাতা: শিল্পের জন্য সরকারের কাছ থেকে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনেও প্রকল্প শুরু হয়নি? এবার সেই জমি নিয়ে কড়া অবস্থানের বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শিল্প গড়ে তুলতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থার কাছ থেকে জমি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শিল্পের জন্য জমি নেওয়া সংস্থাগুলিকেও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, যেসব শিল্পপতি বা সংস্থা সরকারের কাছ থেকে শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে জমি নিয়েছেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেখানে শিল্প গড়ে তুলতে পারেননি, তাঁদের জমি ফেরত নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে নতুন করে শিল্পের জন্য জমি নেওয়া হলে তিন বছরের মধ্যে কারখানা বা শিল্প প্রকল্প চালু করার লক্ষ্য রাখতে হবে বলেও তিনি জানান।
এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন রাজ্য সরকার নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার জানিয়েছিলেন, দুর্গাপুজোর আগেই নতুন শিল্প জমি নীতি প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই নীতিতে জমি পুলিং, সরাসরি জমি কেনা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থার মতো বিষয় থাকার কথা।
শিল্পের জন্য জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বুধবার একাধিক শিল্প সংস্থার হাতে জমির বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে হবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। ওই বরাদ্দগুলির মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।
সরকারি ব্যবস্থাতেও শিল্পজমির ব্যবহার নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প দফতরের নথিতে দেখা যায়, শিল্প পার্ক বা এস্টেটে বরাদ্দ পাওয়া জমির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৩ সালের একটি সরকারি নির্দেশিকাতেও বরাদ্দের তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা শিল্প ইউনিটকে নির্দিষ্ট সুবিধার যোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি শিল্পজমির অপব্যবহার রুখতেও সরকারের নীতিগত অবস্থান রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, শিল্পের জন্য নির্ধারিত জমিকে অনুমতি ছাড়া আবাসিক বা বাণিজ্যিক ব্যবহারে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। অর্থাৎ শিল্পের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ জমি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে।
দিলীপ ঘোষ এদিন রাজ্যে বড় শিল্প বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানান। তাঁর বক্তব্য, শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন বড় শিল্পগোষ্ঠী বাংলায় প্রকল্প শুরু করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে শিল্প বিনিয়োগের আবহেই বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর ২,০০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের শিলান্যাসকে ঘিরে বিশেষ নজর রয়েছে। বুধবার একাধিক শিল্প সংস্থাকে জমি হস্তান্তরের পরের দিনই এই বড় প্রকল্পের সূচনা হচ্ছে। ফলে শিল্পজমির দ্রুত ব্যবহার, বিনিয়োগ বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থান,এই তিনটি বিষয়ই রাজ্যের নতুন শিল্পনীতির আলোচনায় ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সরকারের বার্তা স্পষ্ট, শিল্পের জন্য জমি বরাদ্দ করা হলে সেই জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নও করতে হবে। তবে কোন কোন সংস্থার জমি ফেরত নেওয়া হবে, কতগুলি প্রকল্প এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে এবং জমি ফেরতের নির্দিষ্ট প্রশাসনিক পদ্ধতি কী হবে, তা এখনও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
