কলকাতার মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী নব্য তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ সভায় যোগ দিয়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফিরহাদ হাকিম। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মদন মিত্র, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শিউলি সাহা, অরূপ চক্রবর্তী, অনুব্রত মণ্ডল-সহ একাধিক তৃণমূলত্যাগী নেতা।
সভার শুরুতেই ফিরহাদ হাকিম শহিদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘‘শহীদ পরিবারকে প্রণাম জানাই। আপনাদের পরিজনের আত্মত্যাগে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হয়েছে। সেই সৃষ্টি তৃণমূল কংগ্রেস নিশ্চিতভাবে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। মদন মিত্রের নেতৃত্বে একটা মিছিল আসছিল। আমাদের এখানে স্টেজ করতে দেওয়া হয়নি। আমরা দেখলাম মাইকের তার ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ বিনা প্ররোচনায় গুলি চালালো। যে সিপিএম গুলি চালালো তার বিচার আমরা পেলাম না।’’
বক্তব্যের পরবর্তী অংশে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, এই ফাইল খোলার জন্য, যে তারা বিচার পাবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নেতৃত্বে আমরা লড়াই করেছি। তাকে প্রশ্ন করি, রক্ত বড় নাকি ভক্ত বড়? রক্তের টান ছেড়ে কবে ভক্তের কাছে আসবেন?’’
ফিরহাদের এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে কালীঘাটপন্থী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান। কিছুদিন আগেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নব্য তৃণমূলে যোগ দেন। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে পুরনো দলের নেতৃত্বের সমালোচনায় সরব।
এদিনের সভায় ফিরহাদের অভিযোগ, তাঁদের কর্মসূচি ঘিরে একাধিক বাধা তৈরি করা হয়েছিল। মঞ্চ তৈরিতে বাধা, মাইকের তার ছিঁড়ে দেওয়া এবং কর্মসূচি ব্যাহত করার অভিযোগও তিনি তোলেন। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তাঁর এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে করা তাঁর মন্তব্য এবং বিচার প্রসঙ্গ তুলে ধরা বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।




