সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে। যোগাযোগও নেই। তারপরও মাঝেমধ্যেই অজান্তে প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল খুলে ফেলছেন? কখনও পুরনো ছবি, কখনও নতুন পোস্ট, আবার কখনও তাঁর জীবনে নতুন কেউ এসেছে কি না—এসব জানার কৌতূহল থেকেই বারবার প্রাক্তনের অ্যাকাউন্টে ঢুঁ মারার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
মনোবিদদের মতে, এর সঙ্গে শুধুমাত্র ফের সম্পর্ক তৈরি করার ইচ্ছা জড়িত নয়। কোনও বন্ধুর পোস্ট, স্টোরি কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার সাজেশন থেকেও পুরনো সম্পর্কের কথা মনে পড়তে পারে। সেই স্মৃতি থেকেই তৈরি হতে পারে প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখার তাগিদ। পাশাপাশি রয়েছে তুলনা করার প্রবণতা। প্রাক্তনকে সুখী, সফল কিংবা সামাজিক জীবনে ব্যস্ত দেখলে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁর জীবনকে মেলানোর চেষ্টা করেন অনেকে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে—ও কি এগিয়ে গিয়েছে? আমার কথা কি ওর মনে পড়ে?
পুরনো স্মৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে না পারা, সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে উত্তর খোঁজা কিংবা নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাওয়ার কারণেও প্রাক্তনের সোশ্যাল মিডিয়া দেখা চলতে থাকে। একাকীত্ব, একঘেয়েমি বা অবসর সময়েও এই প্রবণতা বাড়তে পারে। পরে সেটি কার্যত অভ্যাসে পরিণত হয়।
কীভাবে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসবেন?
১. কখন প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখতে ইচ্ছা করছে, সেটা লক্ষ্য করুন। একাকীত্ব, মন খারাপ, বিরক্তি কিংবা কোনও নির্দিষ্ট পোস্ট—কোন বিষয়টি আপনাকে ট্রিগার করছে তা বোঝা জরুরি।
২. প্রয়োজনে প্রাক্তনকে মিউট বা আনফলো করতে পারেন। পুরনো চ্যাট ডিলিট কিংবা আর্কাইভ করে রাখতে পারেন।
৩. ইচ্ছা হলেই প্রোফাইল ঘেঁটে দেখবেন না। প্রয়োজনে অপেক্ষা করুন। সেই সময় হাঁটাহাঁটি, গান শোনা কিংবা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার মতো অন্য কোনও কাজে মন দিতে পারেন।
৪. মানুষ সাধারণত নিজের জীবনের বেছে নেওয়া মুহূর্তই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে। তাই প্রাক্তনের পোস্ট দেখে তাঁর জীবন কতটা ভালো চলছে, তা বিচার করবেন না।
৫. প্রাক্তনের অ্যাকাউন্ট দেখার পর যদি উদ্বেগ, ঈর্ষা, মন খারাপ, ঘুমের সমস্যা বা পুরনো সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা বাড়ে, তাহলে এই অভ্যাসই মানসিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মনোবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই প্রবণতা যদি দীর্ঘদিন ধরে চললে দৈনন্দিন জীবন, ঘুম বা মানসিক স্বস্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বলে বিচ্ছেদের পর কৌতূহল বা পুরনো স্মৃতি মনে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে নিজের মানসিক সুস্থতার জন্য ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসাই গুরুত্বপূর্ণ।
