নয়াদিল্লি: সাত বছর পর ভারতে পা রাখলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন তিনি। আর তাঁর সফরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে। বৈঠকের আগে ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে বেজিং। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা যথাযথ ভাবে সামলে নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে চিন।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং শুক্রবার জানান, জিনপিং ও মোদীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। চিন দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত-চিন সম্পর্ককে দেখতে চায় বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বেজিংয়ের বার্তায় বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে ‘মতপার্থক্য সামলানো’ প্রসঙ্গে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কে যে গভীর অবনতি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সীমান্তে দুই দেশের সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং অরুণাচল প্রদেশ-সহ বিভিন্ন বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা হয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্তে সেনা সরানোর বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। এরপর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু হয়েছে এবং চিনা ব্যবসায়ীদের ভিসা সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করেছে নয়াদিল্লি। বাণিজ্যিক সম্পর্কেও কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভিসা এবং নিরাপত্তা নিয়ে এখনও সন্দেহ ও বাধা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মোদী-জিনপিং বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় সীমান্ত পরিস্থিতির পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। চিনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরস্পরের অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত।
ব্রিক্স সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানও উপস্থিত রয়েছেন। ফলে ভারতীয় কূটনীতির দিক থেকেও এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব নজর এখন মোদী-জিনপিং বৈঠকের দিকে। দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের পর দুই দেশের সম্পর্ক কতটা নতুন পথে এগোয়, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে এই বৈঠক থেকেই।