মাদক পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। আর তারপর থেকেই একেবারে অ্যাকশন মুডে পুলিশ প্রশাসন। পুরুলিয়াতে এবার আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারচক্রের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। পুরুলিয়া-বোকারো জাতীয় সড়কে বেলকুড়ি টোল প্লাজার কাছে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক ও দু’টি চারচাকার গাড়ি আটক করে প্রায় ৩২২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ এবং পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। যৌথ ভাবে অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য মিলেছে।
গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে দীর্ঘ তিন দিন যাবত ওই এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে ঝাড়খন্ডগামী একটি ট্রাককে বেলকুড়ি টোল প্লাজার কাছে আটকানো হয়। সেখানেই তল্লাশি চালিয়ে ট্রাক চালকের আসনে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় বিপুল পরিমাণে গাঁজা উদ্ধার হয়। এছাড়াও আরো দুটি চারচাকা গাড়িকে আটকানো হয়। ওই গাড়ি দুটি প্রাপ্তিকে এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছিল। গোটা অভিযানের মোট তিনটি গাড়ি ও ১০-টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে সাত জন।
অভিযুক্তরা হলেন, রাজু পাল, উত্তমকুমার সিংহ, কালিয়া লঙ্কা, জীবন দে, দীপককুমার সিংহ, রঞ্জিত প্রসাদ এবং অজিতকুমার সিংহ। ধৃতদের মধ্যে তিন জন পশ্চিমবঙ্গ, তিন জন বিহার এবং একজন ওড়িশার বাসিন্দা। মঙ্গলবার তাদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।
পুরুলিয়ায় পুলিশের এই সাফল্যের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন। তিনি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবৈধ মাদক পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং যুবসমাজ ও সমাজের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকার যথেষ্ট প্রশংসা করেন তিনি।
এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, সকলের যৌথভাবে প্রচেষ্টার ফল মিলেছে। গোপন সূত্রে তারা খবর পেয়েছিলেন আগেই। তাই পর পর তিনদিন ধরে তারা নজর রাখছিলেন। শেষ পর্যন্ত আন্তর্য মাদক পাচার চক্রের প্রচেষ্টা তারা ভেস্তে দিতে পেরেছেন। আগামী দিনেও এই ভাবেই তারা অপরাধ দমনের দিকে এগিয়ে থাকবেন।
যুব সমাজকে নেশা থেকে দূরে রাখতে তৎপর রাজ্য সরকার,পুলিশ ও প্রশাসন। তাই ধারাবাহিকভাবে রাজ্য জুড়ে এই অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।