নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলনের আঁচ আরও বাড়ল রাজধানীতে। মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে INDIA ব্লকের মিছিল পুলিশ আটকে দিলে দিল্লির রাস্তাতেই ধর্নায় বসেন বিরোধী সাংসদরা। সেই বিক্ষোভ থেকেই সরব হলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জিয়া-উর-রহমান বার্ক।
বিক্ষোভের মাঝেই বার্কের অভিযোগ, “ভোট লুঠ হচ্ছে, গণতন্ত্রকে খুন করা হচ্ছে।” তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করতে হবে এবং দেশের মানুষকে ন্যায়বিচার দিতে হবে। বার্ক আরও বলেন, এদিন সংসদ থেকে যে মিছিল শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের রূপ নিতে পারে। এমনকি তাঁর দাবি, প্রয়োজনে গোটা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসবেন।
মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জেরেই এই আন্দোলন। বিরোধী শিবিরের দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
এদিন মিছিল শুরু হয়েছিল সংসদের মকর দ্বার থেকে। নির্বাচন সদনের দিকে এগোতেই নীতি আয়োগের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়। এরপর রাস্তায় বসে পড়েন সাংসদরা। রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যারিকেডের উপর উঠতেও দেখা যায়। পরে একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে বাসে করে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।
এই মিছিলে ছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অখিলেশ যাদব-সহ INDIA ব্লকের একাধিক নেতা। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে উঠে আসে ‘Vote Chor, Gaddi Chhod’ এবং ‘Democracy Not for Sale’।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। SIR এবং ভোটার তালিকা নিয়ে চলা এই রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টির আইনি দিক খতিয়ে দেখছে। ফলে মঙ্গলবারের দিল্লির মিছিলকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল।