বেশ কয়েকদিন ধরেই রণজয় ও শ্যামৌপ্তির বিয়ে ভাঙার গুঞ্জনে মুখরিত টলিপাড়া। একই সঙ্গে অভিনেতা রণজয় এর সাথে প্রতিজ্ঞা ধারাবাহিকের সহ অভিনেত্রীর সম্পর্কের কথাও শোনা যাচ্ছিল। যদিও প্রথমে এ বিষয়ে কোনো কিছুই বলেননি রণজয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনুরাগীরা।
বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসেই ভাঙতে চলেছে তারকা যুগলের সংসার। জানা গেছে বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়িতে অশান্তি চলছিল তাদের। বিয়েতে পাওয়া অর্থ নিয়ে সূত্রপাত সমস্যার। ধীরে ধীরে সম্পত্তি নিয়েও মতবিরোধ শুরু হয় দুজনের মধ্যে। স্ত্রীর বড় পর্দায় অভিনয় একেবারেই মেনে নিতে পারেননি রণজয়। আর তারপরেই আসে বাড়ি গাড়ি নিজের নামে করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিনেত্রী। অশান্তি ও অশালীন ভাষায় কথাবার্তা লেগে থাকত প্রতিদিন। এমনকি রোজ একটু একটু করে হওয়া অশান্তি বড় আকার ধারণ করে এবং কিছুদিন আগেই স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধ্য করেছিলেন রণজয়।
যদিও এতদিন টলিপড়ার এই গুঞ্জনকে পাত্তা দেয়নি অভিনেতা। তবে অপেক্ষার বাঁধ ভাঙতেই এই সবকিছু উত্তর দিলেন রণজয়। নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি বলেন দয়া করে আমাকে বাঁচতে দিন আমি খুব সাধারন জীবনযাপন করি আমরা নিজেদের ইচ্ছাতেই ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম কেউ আমাদের জোর করেননি এখন আমাদের যদি কোন সমস্যা হয় সেটা আমরা নিজেরাই মিটিয়ে নেব এবং যদি কোন সিদ্ধান্ত নি তাহলেও সেটা সকলকে জানাবো আমরা দুজনেই কিন্তু দয়া করে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাটাছেড়া করবেন না।
অভিনেতা আরো বলেন - আমি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত তাই আমি এই নিয়ে কোনো কথা বলতে চাইনি। আমি চুপ ছিলাম বলে সেটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু সকলকে মাথায় রাখতে হবে যে একজন মহিলাকে নিয়ে কিছু বলার আগে ভাবা উচিত। এমন কি আমার প্রাক্তন দের নিয়েও কথা বলা হয়েছে। আমার যদি একাধিক প্রেম থাকে তাতে কি কোনো অন্যায় আছে? আমি তো মানুষ খুন করিনি।
ভিডিও পোস্টে অভিনেতা জানান আমরা একসাথে অনেক ভালো সময় কাটিয়েছি। দয়া করে বাঁচতে দিন আমাকে। একটু নিশ্বাস নিতে দিন। আমার যদি কারো সাথে প্রেম থাকতো তাহলে সেটা লুকিয়ে রাখতাম। রোজ রোজ ছবি পোস্ট করতাম না। আমরা এটা করি সিরিয়ালের প্রচারের জন্যই। এর পেছনে আলাদা কোনো উদ্দেশ্য নেই।দয়া করে এমন কথা রটাবেন না। আমাদের মধ্যে যেটা হচ্ছে সেটা আমাদেরই মিটিয়ে নিতে দিন। সম্পর্ক ভাঙলে সেটা সম্পূর্ণই আমাদের সিদ্ধান্ত। আপনারা কেউ নন এটা নিয়ে কিছু বলার।
অভিনেতার কথায় স্পষ্ট, ব্যক্তিগত জীবনে কি হচ্ছে তা বলার কোনো দায় নেই তার। বাড়িতে বয়স্ক মানুষ আছেন এই সমস্ত কথাতে তারাও খুব কষ্ট পাচ্ছেন। তিনি এও জানান মহিলা সহকর্মীদের সাথে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন। একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করতে গেলে ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই করেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে যে সমস্যার মধ্যে দিয়ে তারা যাচ্ছেন সেটা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা দুজনেই করছেন। তবে আগামী দিনে এই তারকা যুগল কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় অনুরাগীরা।