সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে তরুণ শিক্ষার্থী এবং উদ্বেগে থাকা অভিভাবকদের আশ্বস্ত করতে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গভীর রাতে দেওয়া তাঁর সেই বিশেষ বার্তা ছুঁয়ে গিয়েছে কোটি কোটি মানুষের মন। শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় অভিভূত প্রধানমন্ত্রী চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে পুনরায় একটি বার্তা দিয়ে দেশের তরুণসমাজকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, প্রশ্নফাঁসের মতো বিষয়কে সরকার কখনোই হালকাভাবে নিচ্ছে না।তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন--আপনাদের ধন্যবাদ। গতকাল রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। ভিডিওটিতে আপনারা যেভাবে সাড়া দিয়েছেন এবং ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছেন তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।”
লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের যে মানসিক কষ্ট এবং উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন। এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে গড়া জেলের ভেতরে পাঠানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন--আমি জানি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি কোনও সাধারণ বা তুচ্ছ বিষয় নয়।
এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কষ্টদায়ক। তাই, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর গত আড়াই মাসে বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছে।” এই সমস্যার মূল উপড়ে ফেলতে এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে সরকার যে বদ্ধপরিকর, তা তিনি ফের মনে করিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত গঠনমূলক পরামর্শ এবং সহযোগিতার জন্য তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় এক অভূতপূর্ব সাড়া দেখা যায়, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে একপ্রকার ঝড় ওঠে। ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার মাত্র বারো ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অনুগামীর সংখ্যা এক ধাক্কায় প্রায় ১১ লক্ষ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ইনস্টাগ্রামে তাঁর মোট অনুগামীর সংখ্যা ১০১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১০২ মিলিয়নে গিয়ে পৌঁছায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটির ভিউ ২৭ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং লাইকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটিতে। পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ অনুরাগী এতে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বমঞ্চে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনেতা হিসেবে নরেন্দ্র মোদির অবস্থান আগেই সুদৃঢ় ছিল, কিন্তু সংবেদনশীল এই ইস্যুতে সরাসরি পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে তিনি যে নয়া মাইলফলক তৈরি করলেন, তা আবারও প্রমাণ করল দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর তাঁর প্রভাব কতটা গভীর।