সালটা ছিল ২০১৩। কামদুনির এক কলেজ ছাত্রীর গণধর্ষণকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল গোটা বাংলা। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে সবর হয়েছিল সাধারণ মানুষ। ২০১৬ সালে বারাসত আদালত অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্ট সেই সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এরপর নির্যাতিতার পরিবার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি সেখানে বিচারাধীন।
এবার এই ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কামদুনি গণধর্ষণ ও খুন মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখতে সর্বাত্মক আইনি লড়াইয়ের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ১৬ টি পিপি পরিবর্তন করে আসামিদের বেকসুর খালাস করার ব্যবস্থা করেছিল আগের সরকার। এরপর পরিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। মামলাটি সেখানে বিচারাধীন। পরিবারকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের তাদেরকে সহযোগিতা করবে। এই মুহূর্তে কেসটি রাজ্যের হাতে নেই। কিন্তু রাজ্য সরকার সমস্ত দিক থেকেই পরিবারের পাশে রয়েছে। দোষীদের কোনোভাবেই সহযোগিতা করবে না রাজ্য।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। নির্যাতিতার মা বলেন, তার মেয়ে বিচার পাবে বলেই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন তখন তার হাত ধরেই সুপ্রিম কোর্টের যাওয়ার সাহস পেয়েছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। তাই এবার যখন মুখ্যমন্ত্রী আস্থা দিয়েছেন তখন তারা অনেকটাই ভরসা পেয়েছেন।
অন্যদিকে, নির্যাতিতার ভাইয়ের দাবি, দোষীদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। তদন্তে সিআইডির গাফিলতির অভিযোগ তুলে ১১ টি পয়েন্ট মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। নির্যাতিতার ভাই বলেন, আগেও শুভেন্দু অধিকারী তাদের পাশে ছিলেন এখনো পাশে রয়েছেন। এ রাজ্যে প্রতিনিয়ত যেভাবে ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে তাতে এই সবকিছুর একটাই সমাধান এনকাউন্টার। রাজ্য সরকার তাদের পাশে আছে এটাই তাদের কাছে ভরসা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বারুইপুরের নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এক অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পরই কামদুনি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এতে অনেকটাই আশার আলো দেখছেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা।




