কলকাতা: দীর্ঘদিন পর আবার অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের অন্দরে নতুন সমীকরণের জল্পনার মাঝেই শোনা যাচ্ছে, শনিবারই নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরে যোগ দিতে পারেন বীরভূমের প্রভাবশালী এই নেতা। যদিও দল বা অনুব্রত— কারও পক্ষ থেকেই এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবু রাজনৈতিক মহলে এই সম্ভাবনাকে ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
একসময় বীরভূমে তৃণমূলের সংগঠনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। একাধিক মামলায় গ্রেফতার ও দীর্ঘদিন কারাবাসের পর তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে আবার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে। সেই আবহেই তাঁর সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূলের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই অনুব্রতকে নতুন দায়িত্ব বা নতুন শিবিরে আনার ভাবনা চলছে। সেই সূত্র ধরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বাড়ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বীরভূমের সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সে ক্ষেত্রে অনুব্রতের অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা হতে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত জল্পনা সত্যি হয়, তবে জেলার পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে তৃণমূলের একাংশ আবার এই জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, দলীয় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের আলোচনা সম্পূর্ণই অনুমাননির্ভর। অনুব্রত মণ্ডলও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও নীরব।
সব মিলিয়ে শনিবারের দিকে নজর এখন রাজনৈতিক মহলের। অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক ইনিংসে কি সত্যিই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে, নাকি সবটাই গুঞ্জন— তার উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই। আপাতত তৃণমূলের অন্দরের এই সম্ভাব্য রদবদল নিয়েই চর্চা তুঙ্গে।