কলকাতা: রাজ্যে নারী-নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের আগুন এখনও জ্বলছে। বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করে খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার সামনে এল আরও দু'টি শিউরে ওঠা অভিযোগ। একদিকে কলকাতার লেকটাউনে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিযোগ, গৃহশিক্ষক তাঁকে পড়তে ডেকে পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করেছেন। অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় টিউশন থেকে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে এক কলেজছাত্রীকে জঙ্গলের দিকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। দুই ঘটনাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
লেকটাউন থানার তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক নিজের বাড়িতে পড়তে ডাকেন দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে। অভিযোগ, পড়াশোনার ফাঁকে ছাত্রীকে একটি পানীয় দেওয়া হয়। সেই পানীয়ের সঙ্গে মাদকজাতীয় কিছু মেশানো ছিল বলেই অভিযোগ। পানীয় পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। সেই সুযোগেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ছাত্রীর।
জ্ঞান ফেরার পরে অসুস্থ অবস্থাতেই কোনওমতে বাড়ি ফেরেন তিনি। প্রথমে মানসিক ধাক্কায় বিষয়টি কাউকে বলতে পারেননি। পরে পরিবারের সদস্যদের সব খুলে বললে তাঁরা লেকটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার অভিযুক্ত গৃহশিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতের আবেদনও জানানো হয়েছে। যদিও আদালতে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।
এই ঘটনার মধ্যেই বনগাঁ থেকেও উঠে এসেছে আর এক আতঙ্কের ছবি। শনিবার বিকেলে টিউশন শেষে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন এক কলেজছাত্রী। অভিযোগ, আগে থেকেই মোটরবাইক নিয়ে নির্জন রাস্তায় ওত পেতে ছিল মিজানুর মণ্ডল নামে এক যুবক। প্রথমে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কটূক্তি করে। ছাত্রী দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাইক ফেলে তাঁর পথ আটকে জোর করে রাস্তার ধারের ঝোপের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
প্রাণপণ প্রতিরোধ করেন ওই তরুণী। কোনওমতে নিজেকে ছাড়িয়ে চিৎকার করতে শুরু করেন। সেই আর্তনাদ শুনে কাজ সেরে বাড়ি ফেরা কয়েক জন দিনমজুর ছুটে আসেন। তাঁদের এগিয়ে আসতে দেখে অভিযুক্ত মোটরবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে মিজানুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ধৃত বিবাহিত এবং তার একটি সন্তানও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, নির্জন রাস্তায় বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে পথচলতি মহিলাদের উত্যক্ত করা তার নিত্যদিনের অভ্যাস ছিল। অতীতেও তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্ত নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বারুইপুরের নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করে খুনের ঘটনায় এখনও উত্তাল রাজ্য। সেই আবহে একের পর এক নারী নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসায় ফের প্রশ্ন উঠছে— রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত? বিরোধীরা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরব হলেও, পুলিশ জানিয়েছে প্রতিটি অভিযোগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।