মালদহ: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগে মালদহ পুলিশের অভিযানে বড়সড় সাফল্য। সোমবার রাতে জেলার দুটি পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করার পাশাপাশি ব্রাউন সুগার তৈরির একটি কারখানার হদিশ পেয়েছে পুলিশ। ঘটনায় মোট তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় মালদহের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে গোলাপগঞ্জ এলাকায়। সেখানে অস্ত্র পাচারের একটি চক্র সক্রিয় থাকার খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই ঘটনায় সুবর্ণ মণ্ডল এবং দীপঙ্কর মণ্ডল নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে চারটি উন্নতমানের পিস্তল উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ধৃত দু’জনই সীমান্ত সংলগ্ন মিলিক সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এসেছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অস্ত্রগুলি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছিল।
মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, অস্ত্র পাচারের ঘটনায় একটি আন্তর্জাতিক চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের কীভাবে এই চক্রে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং এর পিছনে আরও কারা রয়েছে, সেই তথ্যও সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, একই রাতে কালিয়াচক থানার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর এলাকায় আরও একটি অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে একটি গোপন জায়গায় ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের। অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ কেজি ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।
এই ঘটনায় অঞ্জু শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, কালিয়াচকের ওই গোপন জায়গাতেই বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার তৈরি করা হচ্ছিল। পরে সেই মাদক জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি অন্য জায়গাতেও পাচার করা হত বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ব্রাউন সুগার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল মায়ানমার থেকে পাচার করে আনা হত বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সীমান্তের যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই বা নজরদারি তুলনামূলক কম, সেইসব জায়গা দিয়ে কাঁচামাল মালদহে ঢুকত বলে সন্দেহ পুলিশের।
এরপর কালিয়াচকের গোপন কারখানায় সেই কাঁচামাল ব্যবহার করে মাদক তৈরি করা হত বলে অভিযোগ। মাদক তৈরির পর তা বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হত কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অস্ত্র এবং মাদক—দুটি পৃথক ঘটনায় একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তপারের কোনও বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে মায়ানমার থেকে কাঁচামাল আসা এবং বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনও সংগঠন বা অন্য কোনও অপরাধী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছে না প্রশাসন।
এক রাতের অভিযানে অস্ত্র ও বিপুল মূল্যের মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মালদহে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের আরও কোনও সদস্যের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।