হাবিবুর রহমান, ঢাকা : বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শহীদ দিবস পালন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও প্রতিপক্ষের হাতে মারধোরের শিকার হয়েছেন ৩ জন। অবশ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শহীদ দিবস ঘিরে বাংলাদেশে অশান্তি ছড়াতে পারে বলে এমনটা আঁচ করে ঢাকাসহ সারাদেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তা সত্বেও বিভিন্নস্থানে ডঃ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে আওয়ামি লিগ ও এর অঙ্গ সংগঠন যুবলিগ, ছাত্রলিগ, কৃষক লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপরও লিগের নেতা কর্মীরা ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালন করতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও প্রতিপক্ষের হাতে মারধোরের শিকার হয়েছেন।
শোক দিবসে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে দেওয়া বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও শিঙাড়া বিলি করার অভিযোগে তিনজনকে মারধোর করা হয়েছে। এ পর্যন্ত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সড়কের প্রবেশমুখে এ মারধরের ঘটনা ঘটেছে।তাৎক্ষণিকভাবে মারধরের শিকার ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়নি।মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় রিকশাচালককে। আহাম্মেদ আ ন ম আয়াস নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল জনতা তাঁদের মারধর করেন। তাঁরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়েছেন। আ ন ম আয়াস ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ) নামে একটি সংগঠনের সদস্যসচিব বলে পরিচয় দেয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে একজন রিকশাচালক তাঁর মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছেন। একপর্যায়ে আয়াস তাঁর কাছে যান, ফোন চেক করেন। ভিডিওটি যুবলিগের একজনকে পাঠিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেন। এ সময় আয়াসের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ওই রিকশাচালককে মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে ওই রিকশাচালককে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে আসা অর্ণব দাস নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তিনি ফুল দিতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম বলেন, অর্ণব দাসের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলিগের সক্রিয় কর্মী বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রিকশাচালককে মারধোরের সময় সেখানে থাকা আরেক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে তাঁকেও মারধোর করা হয়। একপর্যায়ে দৌড়ে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। শিঙাড়া বিলি করার অভিযোগে মারধর করা হয় আরেকজনকে। আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ (কার্যক্রম) সংগঠন আওয়ামি লিগ, যুবলিগের নেতা–কর্মীরা যাতে কোনো অপতৎপরতা করতে না পারে, সে জন্য তাঁরা অবস্থান করছেন। কাউকে পেলে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন। মব সৃষ্টি করে কাউকে মারধর করতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আয়াস বলেন, তিনি মব সৃষ্টি করছেন না। আওয়ামি লিগ, যুবলিগ পেলে ধরে শুধু পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে আয়াস সেখান থেকে চলে যান।
১৫ আগস্ট ঘিরে ডিএমপির ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। এদিন ভোর থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ভেঙে দেওয়ার বাড়ির সামনে সড়কের দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড দেখা যায়। বাড়ির সামনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সড়কটি দিয়ে হেঁটেও কাউকে চলাচল করতে দেওয়া হয়নি । সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। উৎসুক লোকজনকেও ভিড় করতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ে। পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা ছিল।