দিল্লি, নিউজ ডেস্ক: কাগজপত্র ঠিক থাকলেই মিলবে সরকারি অনুমোদন, এটাই নিয়ম। কিন্তু, সেই নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য যদি গোপনে অর্থের লেনদেন হয়, তাহলে প্রশ্ন তো উঠবেই। রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরেকে ঘিরে এমনই এক অভিযোগ প্রকাশে আসতে শুরু হয়েছে তৎপরতা। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং অনুমোদন সংক্রান্ত কাজে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের FCRA সংক্রান্ত কাজকে ঘিরে। ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট-এর আওতায় কোনও সংস্থাকে লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়া এবং সেই লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ এর ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তি সিনিয়র আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে ?একজন বর্তমানে মন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। অপরজনও একসময় ওই ডিভিশনে এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি পে এন্ড অ্যাকাউন্টস অফিসে কর্মরত রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত দুই আধিকারিক বেশ কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। FCRA -র অধীনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজ দ্রুত করে দেওয়া কিংবা লাইসেন্স পুনর্নবীকরণে সহযোগিতা করার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। গ্রেফতারের পর শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত। এই কর্মকান্ডের সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা যুক্ত ছিল কি না, আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কত এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এর ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ভূমিকা ঠিক কি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একইসঙ্গে FCRA পরিষেবা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা ও দিয়েছে মন্ত্রক। মন্ত্রকের বক্তব্য FCRA নিয়ে সমস্ত পরিষেবা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এই পরিষেবা পাওয়ার জন্য কোনও মধ্যস্থতাকারী এজেন্ট বা অন্য কোনও ব্যক্তির প্রয়োজন নেই। ফলে, কেউ FCRA-এর কাজ করে দেওয়ার নামে টাকা দাবি করলে, তা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুই আধিকারিকের গ্রেফতারের পর এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে নজর। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সংস্থা এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখে এই ঘটনায় আরও কোনও নতুন যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।
