রাতভর ভারী বর্ষণে কার্যত বিপর্যস্ত দেশের রাজধানী দিল্লি। শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাটে কোমরসমান জল জমে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এরই মধ্যে রোহিনী এলাকায় একটি নির্মীয়মান বাড়ি ধসে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর বৃহস্পতিবারও বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় জল জমে ছোটখাটো নদীর চেহারা নিয়েছে। সেই জল ভেঙেই ধীরগতিতে চলাচল করছে গাড়ি। বহু পথচারী হাঁটুজল পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টির পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সদর বাজার, গ্রেটার কৈলাশ, বদরপুর, নাসিরপুর, তেলিওয়ারা, মহাবীর বাজার, স্বরূপ নগর, কুশক রোড, মুনিরকা, দ্বারকা, বিকাশ মার্গ, পূর্ব দিল্লি এবং নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলনিকাশির কাজ চললেও জল নামতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছে পুরসভা।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সফদরজং আবহাওয়া কেন্দ্রে ৭২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে লোধি রোডে ৮০.২ মিলিমিটার, রিজ এলাকায় ৭৭.৮ মিলিমিটার, পালামে ৬৩ মিলিমিটার এবং আয়ানগরে ৫৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, স্বল্প সময়ে এত বিপুল বৃষ্টিপাতই জল জমার অন্যতম কারণ।
দিল্লির পাশাপাশি প্রবল বর্ষণের প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রামেও। নরসিংহপুর, বসাই, উমাং ভরদ্বাজ চক, কাদিপুর, সেক্টর ১০এ এবং সোহনা রোড সংলগ্ন দিল্লি-জয়পুর মহাসড়কে জল জমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে মৌসম ভবন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারও দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টাও রাজধানীবাসীর জন্য কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।