প্রশ্নের মুখে দাঁড়ালো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা। ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় বাঁকুড়ার শালতোড়া গ্রামীন হাসপাতাল। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিধায়িকা চন্দনা বাউরী। বাঁকুড়ার শালতোড়া গ্রামীণ হাসপাতালে রোগীদের ব্যবহারের অনুপযুক্ত বা বাতিল স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ঘটনায় সরব হয়েছেন শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা চন্দনা বাউরী। তিনি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
বিধায়িকার অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকেই শালতোড়া গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সেগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। তার দাবি, হাসপাতালের গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও কেন রোগীদের বিতর্কিত বা ব্যবহারের অনুপযুক্ত স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। কেন এইভাবে চিকিৎসা পরিষেবায় গাফিলতি দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিধায়িকা চন্দনা বাউরীর স্পষ্ট বার্তা, মানুষের জীবন নিয়ে কোনওরকম পরীক্ষানিরীক্ষা করা যায় না। যে সমস্ত স্যালাইন ব্যবহারের অনুপযুক্ত বা বাতিল বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলি রোগীদের শরীরে প্রবেশ করলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই ঘটনা কোনভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিধায়িকা।
শুধু তাই নয় এরই পাশাপাশি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য বার্তা দিয়েছেন বিধায়িকা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনওরকম গাফিলতি মেনে নেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর আস্থা করে বহু মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন প্রতিনিয়ত। সেখানে দাঁড়িয়ে সেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। শালতোড়া গ্রামীণ হাসপাতালের স্যালাইন বিতর্ক রীতিমতো সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার দিকে আঙুল তুলছে। প্রশাসন আগামী দিনে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেদিকেই তাকিয়ে জঙ্গলমহলের একাংশ মানুষ।