কলকাতা: সংবাদমাধ্যমের কাজ ক্ষমতার পাশে দাঁড়ানো নয়, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। আর সেই প্রশ্ন যদি নিজের দলের দিকেও যায়, তাতেও আপত্তি নেই। কলকাতায় সাংবাদিকদের এক সম্মাননা অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এমনই বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও ত্রুটি, দুর্নীতি বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা যেমন নির্ভয়ে প্রকাশ করা উচিত, তেমনই সেই ধরনের অভিযোগে যদি কোনও বিজেপি নেতা বা দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি জড়িয়ে পড়েন, তা হলেও তাঁর ছবি-সহ নাম প্রকাশ করতে পিছিয়ে আসা উচিত নয়।
শনিবার প্রগতিশীল রাষ্ট্রবাদী সাংবাদিক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত 'নির্ভীক সাংবাদিক সম্মান' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শমীক। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তিনি।
বক্তৃতায় শমীক বলেন, “যখনই দেখবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে, শিল্পের সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ হচ্ছে, ওয়াকফ সম্পত্তি দখল হচ্ছে, দেবোত্তর সম্পত্তি গ্রাস হচ্ছে বা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হচ্ছে, তখনই তা তথ্য-প্রমাণ-সহ প্রকাশ করুন।”
এর পরেই নিজের দলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "যদি দেখেন সেই ঘটনায় কোনও বিজেপি নেতা, বিজেপির সমর্থক বা বিজেপির ছত্রছায়ায় থাকা কেউ জড়িত, তা হলেও তাঁর ছবি-সহ নাম প্রকাশ করুন। কোনও রাখঢাক করবেন না। তাহলেই সংবাদপত্রের অধিকার ও সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা পাবে।" প্রসঙ্গত পালা বদলের বাংলায় রাজ্যে এখন বিজেপির সরকার ৷ সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রতি দলের রাজ্য সভাপতির এহেন আহ্বান আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের দাবি, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যাঁরা সত্য প্রকাশে আপস করেননি, সেই সব সাংবাদিকদের সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ। সেই আবহেই সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ করে শমীকের বার্তা, “সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি নির্ভীকতা। সত্যকে আড়াল করলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়, আর সত্য প্রকাশ করলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।”
শমীকের এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। অপর অংশের কৌতূহল, স্বচ্ছতার ডাক নাকি রাজনৈতিক কৌশল ?




