নিউজ ডেস্ক: একসময় বন্ধুত্ব, আড্ডা আর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের অন্যতম জনপ্রিয় ঠিকানা ছিল Orkut। ফেসবুকের দাপট বাড়ার আগে এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতেন অসংখ্য মানুষ। ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যবহারকারীদের স্মৃতিতে রয়ে গিয়েছে সেই পুরনো Orkut। এবার সেই প্ল্যাটফর্মকে ঘিরেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন নেটিজেনদের একাংশ। প্রতিষ্ঠাতা Orkut Buyukkokten-এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে একটি অনলাইন পিটিশন, যা পুরনো সোশ্যাল নেটওয়ার্কটির প্রত্যাবর্তনের জল্পনা বাড়িয়েছে।
২০০৪ সালে Google-এর কর্মী Orkut Buyukkokten এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছিলেন। একসময় ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল Orkut। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, কমিউনিটিতে যোগ দেওয়া এবং নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ ছিল এই প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু পরবর্তীকালে Facebook-সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় Orkut-এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কী রয়েছে নতুন উদ্যোগে?
বর্তমানে Orkut-এর ওয়েবসাইটে একটি বার্তা এবং অনলাইন স্বাক্ষর অভিযানের মাধ্যমে নতুন ধরনের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরির আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য, এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা দরকার, যেখানে প্রকৃত মানুষের যোগাযোগ, আন্তরিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বিশ্বাসকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনলাইন পিটিশনে বহু দেশের মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগের অর্থ এই নয় যে Orkut-এর পুরনো পরিষেবা ইতিমধ্যেই ফিরে এসেছে। নতুন প্ল্যাটফর্ম কবে চালু হবে, কী কী সুবিধা থাকবে কিংবা পুরনো অ্যাকাউন্ট ও তথ্য ফেরানো সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই।
AI ও অ্যালগরিদম নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন প্রতিষ্ঠাতা?
বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন Buyukkokten। তাঁর মতে, অনেক প্ল্যাটফর্ম এখন প্রকৃত যোগাযোগের পরিবর্তে ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনে বেশি সময় ধরে রাখার দিকে নজর দিচ্ছে। বিজ্ঞাপন, ভাইরাল কনটেন্ট এবং অ্যালগরিদমের প্রভাবের ফলে অর্থপূর্ণ কথোপকথনের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলেও তাঁর বক্তব্য।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। ডিজিটাল দুনিয়ায় AI-নির্মিত কনটেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় কথোপকথন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি সত্যিই মানুষ কি না, তা বোঝা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রকৃত যোগাযোগ ফিরিয়ে আনাই তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
পুরনো নস্টালজিয়া কি ফিরবে?
Orkut-এর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা অনেক পুরনো ব্যবহারকারীর কাছে আবেগের বিষয়। তবে শুধু নস্টালজিয়া দিয়ে বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক সোশ্যাল মিডিয়ার বাজারে টিকে থাকা সহজ হবে না। ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, বিজ্ঞাপনের নীতি এবং AI-নির্ভর ভুয়ো কনটেন্ট মোকাবিলার মতো বিষয়েও নতুন প্ল্যাটফর্মকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সব মিলিয়ে, Orkut-এর এই উদ্যোগ ফের একবার প্রশ্ন তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়া কি শুধুই স্ক্রলিং আর ভাইরাল কনটেন্টের জগৎ হয়ে থাকবে, নাকি ফিরে আসবে মানুষের সঙ্গে মানুষের আন্তরিক যোগাযোগের পুরনো সংস্কৃতি? উত্তর মিলবে নতুন প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট হলে।
