মায়ানমার, অঙ্কন দাস: হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল মায়ানমারে।ঘটনাস্থল মায়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলের একটি বৌদ্ধ মঠ। শুক্রবার সেখানেই মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় হয়। এই হামলায় ১৪জন নিহত হন। সেখানে তাঁরা এক সপ্তাহের একটি 'ধ্যান কর্মসূচি'তে অংশ গ্রহন করেছিলেন। এই খবর সেখানকার একটি বিরোধী গোষ্ঠীর সদস্য এবং স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান। মায়ানমারে গণতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র বাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী গুলোকে লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক ও প্রাণঘাতী বিমান হামলা গুলির সর্বশেষ ঘটনা। এই ধরনের হামলায় প্রায়ই বেসামরিক মানুষ হতাহত হন, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
'সিভিল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন অফ মিয়াউং টাউনশিপ’ (সিডিএসওএম)-র মুখপাত্র নওয়ে উ'র বক্তব্য,'শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার (৪৫ মাইল) পশ্চিমে মিয়াউং টাউনশিপের সোয়েল-লে-ওহ্ গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।' নওয়ে উ আরও জানান, ‘একটি যুদ্ধবিমান গ্রামের মঠের প্রাঙ্গণে বোমা ফেলে। তিনজন নারীসহ ১৪ জন নিহত হন। আরও ২০ জন আহত হন।’
নাম প্রকাশ না করে গ্রামবাসী সাংবাদিকদের কাছে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই গ্রামবাসী বলে, 'যুদ্ধবিমানটি ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বোমা ফেলেছিল। এর মধ্যে দ্বিতীয় বোমাটি মঠের কাছে একটি বাড়িতে আঘাত হানে। বৌদ্ধদের ধর্মীয় উপবাস বা 'লেন্ট' (Lent) চলাকালীন এক সপ্তাহব্যাপী আধ্যাত্মিক সাধনায় অংশ নিতে সেখানে শতাধিক মানুষ অবস্থান করছিলেন।' বিমান হামলায় আত্মীয় হারিয়েছেন ওই গ্রামবাসী। তিনি আরও জানান, 'নিহতদের মরদেহ সৎকার করার পর লোকজন পালিয়ে নিকটবর্তী একটি লোকালয়ে আশ্রয় নেয়।' সব মিলিয়ে এখনও থমথমে পরিবেশ সাগাইংয়ে।