নিউজ ডেস্ক: মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সূচনা ঠিক কবে, তা এখনও অজানা। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার থেকে জানা গিয়েছে, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার বহু হাজার বছর আগেও মানুষ অসুস্থতার মোকাবিলায় নানা উপায় খুঁজে বের করেছিল। এবার সাইবেরিয়ায় পাওয়া একটি প্রাচীন দাঁত নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। গবেষকদের অনুমান, প্রায় ৬০ হাজার বছর আগে নিয়ান্ডারথালরা দাঁতের ক্ষয় বা ক্যাভিটির চিকিৎসার জন্য পাথরের সরঞ্জাম দিয়ে দাঁতে ছিদ্র করার চেষ্টা করেছিলেন। এই আবিষ্কার প্রাগৈতিহাসিক যুগের চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
সাইবেরিয়ার চাগিরস্কায়া গুহা থেকে পাওয়া একটি দাঁত পরীক্ষা করতে গিয়ে সম্ভাব্য এই অস্ত্রোপচারের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। দাঁতটির বয়স প্রায় ৬০ হাজার বছর। অণুবীক্ষণিক পর্যবেক্ষণে দাঁতের গায়ে ছিদ্রের চিহ্ন ও ক্ষয়ের প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, এই চিহ্নগুলি কেবল প্রাকৃতিক কারণে তৈরি হয়নি; বরং দাঁতের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ছিদ্র করা হয়ে থাকতে পারে।
গবেষকদের অনুমান, সূঁচালো কোনও পাথরের সরঞ্জাম ব্যবহার করে দাঁতের ভিতরের অংশ পর্যন্ত ছিদ্র করা হয়েছিল। সরঞ্জামটি জ্যাসপার নামের এক ধরনের পাথর দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে। দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পৌঁছনো বা সমস্যার উপশম করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
দাঁতের ভিতরে সংক্রমণ হলে তীব্র যন্ত্রণা ও চাপ তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সমস্যা কমানোর উদ্দেশ্যে এই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে চিকিৎসাটি করা হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এই আবিষ্কার নিয়ান্ডারথালদের বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবহারিক দক্ষতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে। এত প্রাচীন সময়ে দাঁতের সমস্যার মোকাবিলায় সরঞ্জাম ব্যবহারের সম্ভাবনা ইঙ্গিত দেয়, শারীরিক অসুস্থতা থেকে উপশম পাওয়ার জন্য তাঁরা সচেতনভাবে সমাধান খুঁজতেন।
দাঁতে তৈরি হওয়া ছিদ্রের অণুবীক্ষণিক বৈশিষ্ট্য থেকে সম্ভাব্য চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে ওই ব্যক্তি চিকিৎসার ফলে স্বস্তি পেয়েছিলেন কি না, কিংবা এই ঘটনার পর তিনি কত দিন বেঁচে ছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে বলার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
সব মিলিয়ে, এই আবিষ্কার নিয়ান্ডারথালদের কেবল আদিম মানবগোষ্ঠী হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত জ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা সম্পর্কে আরও গবেষণার নতুন পথ খুলে দিয়েছে এই প্রাচীন দাঁত।
