কলকাতা,নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘটে গিয়েছে এবিভিপি বনাম এসএফআই-র ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক তান্ডব। 'জিবি কমিটি গঠন' করা নিয়ে প্রথমে তর্কাতর্কি বাঁধে। পরে সেটি ব্যাপক মারামারির আকার নেয়। এবিভিপি জানায় 'যেখানে ইউনিয়ন নেই, সেখানে জিবি কমিটি গঠন হয় কি করে?' এরই পাল্টা উত্তর দেয় বামেরা। তারা জানায় 'জিবি কমিটি গঠন করতে গেলে কোন ইউনিয়নের প্রয়োজন হয় না। যেকোনো সাধারণ ছাত্র-ও জিবি কমিটির বৈঠক ডাকতে পারেন।' এরই পরিপ্রক্ষিতে বিক্ষোভ এবং হিংসাত্মক ঘটনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ফুঁসে ওঠে। পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দখল কে রাখবে তাই নিয়ে চলেছে চাপানউতোর। আর এর মধ্যেই; আবার ঘটে গেল, আরেকটি নতুন বিতর্ক!
এই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন আফরিন। তার বিরুদ্ধে 'ভুয়ো পিএইচডি'র অভিযোগ এনেছে এবিভিপি। এসএফআইয়ের তরুণ মুখ এবং বামপন্থী আন্দোলনের অন্যতম কারিগর আফরিন ২০২৬ বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন এই যাদবপুর কেন্দ্র থেকেই। উল্টোদিকে ছিলেন তার প্রবলতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই মুহুর্তে আফরিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দর্শনের গবেষক হিসেবে কাজ করছেন।
আফরিনের পিএইচডি দুর্নীতি নিয়ে এবার আইনি পথে নামতে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন 'যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি দুর্নীতির বিস্ফোরক অডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। এটা প্রথমবার নয়, বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভর্তি পরীক্ষা নেয়। আর তারপর বাম-অতিবামপন্থী ছাত্রদের পিছনের দরজা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। বালিগঞ্জের বিধানসভার প্রার্থী আফরিন অবৈধভাবে পিএইডি-তে ভর্তি হয়েছেন। নিজের সাবজেক্টে না পেয়ে যাদবপুরে বেআইনিভাবে পিএইচডিতে অন্য বিষয়ে অ্যাডমিশন নিয়েছেন। পার্থ প্রতিম রায় এই দুর্নীতির মাথা।'
অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানান, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালেয়র ছেলে মেয়েরা মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী। ওরা চায় গৃহপালিত করে রাখতে। সেটা যাদবপুরের ছাত্ররা চায় না।’
তবে যাকে নিয়ে এই অভিযোগ, সেই আফরিন এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেন নি