কলকাতা: আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হাতবদল হল কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি? চিটফান্ড সংস্থা ভিবজিওর মামলায় এই প্রশ্ন ঘিরেই নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটির হেফাজতে থাকা সম্পত্তি বেআইনিভাবে বিক্রি ও হস্তান্তরের অভিযোগ সামনে আসতেই এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-কে। পাশাপাশি, এখনও যে সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, সেগুলি দ্রুত বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। আদালতে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, সম্পত্তি বেআইনিভাবে হাতবদলের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ডিরেক্টরেট অফ ইকোনমিক অফেন্সেসের মাধ্যমে প্রাথমিক তদন্ত করানো হয়েছে। সেই তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেই উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
২০২১ থেকে ২০২৫, কীভাবে হাতবদল সম্পত্তি?
রাজ্য সরকারের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে একাধিক সম্পত্তি নিয়ম ভেঙে হস্তান্তরিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সে প্রায় ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তিও রয়েছে। শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সম্পত্তিও বেআইনিভাবে হাতবদল হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় আরও বড় প্রশ্ন উঠছে সম্পত্তির উপর নজরদারি নিয়ে। আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটির হেফাজতে থাকা সম্পত্তি কীভাবে হস্তান্তরিত হল, তা খতিয়ে দেখাই এখন তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্পত্তি অন্য সংস্থার নামে সরিয়ে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন আমানতকারীদের আইনজীবীরা।
আমানতকারীদের পক্ষে আইনজীবী শুভাশিষ চক্রবর্তী ও অরিন্দম দাসের দাবি, নিষেধাজ্ঞার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অন্য সংস্থার নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি ও বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, কমিটির নজরদারি এড়িয়ে বিপুল অঙ্কের সম্পত্তি হাতবদলের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
২৬ নভেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ
মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার, আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটি এবং ইডি তিন পক্ষকেই বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ২৬ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
এখন নজর থাকবে ইডির তদন্তে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কীভাবে সম্পত্তি হাতবদলের অভিযোগ উঠল, এর পিছনে কারা রয়েছেন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজবে তদন্ত। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে এই মামলায় আগামী শুনানিতে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।
