ওড়িশা, নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার বালেশ্বর সংলগ্ন উপকূলবর্তী বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ওরাং ওটাং শাবকের শারীরিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তারা ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কের কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০ সেপ্টেম্বর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত স্বাস্থ্য মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি পুরুষ ও দুটি স্ত্রী শাবকই এখন শঙ্কামুক্ত এবং তাদের খাওয়া-দাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ অনেকটাই ফিরে এসেছে।
দেখুন: https://x.com/ddnandankanan/status/2101658734120636743?s=20
নন্দনকাননের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রদীপ মিরসে জানিয়েছেন, শাবকগুলির উপর মানসিক চাপ কমাতে থার্মাল ক্যামেরার সাহায্যে নিয়মিত দেহের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, পুরুষ শাবক তিনটির ওজন যথাক্রমে ৫.৩৪ কেজি, ৩.৫৬ কেজি এবং ৩.১ কেজি এবং দেহের তাপমাত্রা ৯৮.৬ থেকে ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে স্ত্রী শাবক দুটির ওজন নথিভুক্ত হয়েছে ৪.২৮ কেজি ও ২.১৮ কেজি এবং তাপমাত্রা ৯৮.৮ ও ৯৯.৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
চিকিৎসকদের মতে, উদ্ধারকালীন মারাত্মক রক্তাল্পতা ও তাপমাত্রার ওঠানামা কাটিয়ে তারা স্বাভাবিক পরিসরে ফিরছে। দিল্লি চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি অফিসার অভিজিৎ ভাওয়াল এবং দেরাদুনের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার বন্যপ্রাণ চিকিৎসক সনথ কৃষ্ণমুলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল সম্প্রতি নন্দনকাননের নিভৃতবাস কক্ষ পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা শাবকগুলির সার্বিক পরিচর্যা খতিয়ে দেখে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তরল দুধের পাশাপাশি ধীরে ধীরে কঠিন খাদ্য যেমন-ফল ও সেদ্ধ খাবার যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া পেটের অভ্যন্তরীণ পরজীবী সম্পূর্ণ নির্মূল করতে উপযুক্ত কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে বালেশ্বরের ভোগরাই ব্লকের বড়পালি গ্রামের কাজুবাদাম ও ঝাউবনের কাছে এই বিদেশি বন্যপ্রাণীগুলি প্রথম স্থানীয় ভিএসএস কর্মীদের নজরে আসে। ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের বাসিন্দা এই অতি বিপন্ন স্তন্যপায়ীরা কীভাবে ওড়িশার উপকূলে পৌঁছাল, তা নিয়ে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ও ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের যোগ খতিয়ে দেখছে। শাবকগুলির প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করতে রক্ত ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া এবং কোয়ারেন্টাইন মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সার্বক্ষণিক নিবিড় নজরদারিতে রাখা হবে। সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।