নিউজ ডেস্ক: 'আসল তৃণমূল' নিয়ে বিতর্ক এবার বাংলার রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ রইল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দ্বন্দ্বের মধ্যেই এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল মেঘালয় তৃণমূল। পাহাড়ি রাজ্য থেকে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চার্লস পিংরোপের বিস্ফোরক দাবি, "আমরাই আসল তৃণমূল। আমাদের এখানে কোনও নকল তৃণমূলের জায়গা নেই।" তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙ্গন ও নেতৃত্ব নিয়ে টানাপড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির - দুই পক্ষের মধ্যেই আসল তৃণমূল নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই চলছে। এরই মধ্যে দলের কয়েকজন সাংসদ দল ছাড়লেও, তাঁরা সরাসরি তৃণমূলের প্রতীক বা দলের মালিকানা দাবি করেননি। ফলে, এতদিন বিতর্কটি বাংলায় দুই শিবিরের মধ্যেই ছিল।
এবার সেই সমীকরণের তৃতীয় পক্ষের প্রবেশ। মেঘালয় তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চার্লস পিংরোপ প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর রাজ্যে 'নকল তৃণমূলের' কোনও অস্তিত্ব নেই। তাঁর দাবি, মেঘালয় তাঁরাই তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিনিধি। তবে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলার কোন শিবিরকে সমর্থন করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
মেঘালয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল এখনও প্রধান বিরোধীদলের মর্যাদা ধরে রেখেছে। দলের পাঁচজন বিধায়ক রয়েছেন। পাশাপাশি কংগ্রেসের এক বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তৃণমূলের দিকে। বিরোধী দলনেতা মুকুল সাংমা এবং রাজ্য সভাপতি চার্লস পিংরোপ দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব সামলাচ্ছেন।
তবে, বিধানসভায় উপস্থিত থাকলেও জনসমর্থনের জায়গায় তৃণমূল যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন পিংরোপ। পাহাড়ি রাজ্যে দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি, লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী দিতে পারেনি। এবিষয়ে তাঁর যুক্তি, উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ভবিষ্যতে দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কি হবে, তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি মেঘালয় নেতৃত্ব। পিংরোপ জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগামী দিনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে, বাংলায় যখন 'আসল তৃণমূল' নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখন মেঘালয় থেকে আসা এই দাবি নতুন ভাবে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।