ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে।
শুক্রবার সকালে নিয়ে আসা হয় খড়দহ থানায়। সেখান থেকে আদালতের পথে বেরোতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ডিম থেকে বাঁচতে হেলমেটও পরেও, রেহাই পেলেন না নির্মল ঘোষ। শুধু ডিম নয়, রীতিমত চড়, লাথিও খেতে হয়। এমনকি, থানার সামনে ডিজে বাজিয়ে নাচও করা হয়।
অন্যদিকে, প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাঁকেও এ দিন খড়দহ থানা থেকে ব্যারাকপুর আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে নিশানা করেও ডিম ছোড়া হয়। থানার সামনে ওঠে চোর চোর স্লোগান।
গত সোমবার খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছ়িলেনন অভয়ার বাবা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। নতুন করে এফআইআর দায়ের হতেই ওড়িশায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন নির্মল। এমনকি নতুন সিমকার্ডও ব্যবহার করছিলেন তিনি। নতুন সিমকার্ড ব্যবহার করেই ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। সেই মোবাইলে টাওয়ার লোকেশন ধরে নির্মলের গতিবিধি নজর রেখে পুরী লাগোয়া একটি হোটেলে হানা দেয় পুলিশ। সেই
হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় নির্মল ঘোষকে।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি করের চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ করে খুনে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ, নিহত তরুণী চিকিৎসকের দেহ শ্মশানে দ্রুত দাহ করা হয় নির্মলের নির্দেশে। সেই সৎকার ঘিরে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে মামলা দায়ের হয়েছে। নির্মল ঘোষ ছাড়াও এফআইআরে নাম রয়েছে পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সোমনাথ দে এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। তার ঠিক একমাসের মাথায় গ্রেফতার তিনি। সূত্রের খবর, লটারি প্রতারণার অভিযোগ-সহ একুশের ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২৬-এর নির্বাচনে পানিহাটিতে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন তিনি। আরজি করের নির্যাতিতা-নিহত তরুণীর মা, বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি।