কলকাতা, রেশমি ব্যানার্জি; সদ্য প্রয়াত হয়েছেন তৃণমূলের বর্ষিয়ান নেতা আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা এলাকায় শোকের ছায়া। সোমবার দলের তরফে পরিবারের পাশে দাড়াতে তার বাড়িতে যান সাংসদ সামিরুল ইসলাম। ঘরের মানুষদের সঙ্গে দেখা করেন। কথা বলেন পরিবারে সাথে, তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। কিন্তু শোকের ভারে তখন যেন কথা হারিয়েছে গোটা বাড়ি। চারিদিকে শুধু কান্নার শব্দ।
সাংসদ সামিরুল নিজের ফোন থেকে প্রয়াত আসিস বন্দ্যোপাধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনে কথা বলান। পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা, ‘মর্মান্তিক ঘটনা। আপনার যে কোনও দরকারে আমি পাশে আছি।’নেত্রীর সমবেদনার বার্তায় আরও যেন কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার।
অশ্রু মিশ্রিত কন্ঠে প্রয়াত আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেন, ‘পারলে একবার আসবেন। আমাদের তো সব কিছু শেষ হয়ে গেল। কিছুই বাকি রইল না।’ তার এই কথা শুনে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সেই মুহূর্তে সামিরুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রয়াত আশিসের ভাইয়ের স্ত্রী, ভাইপো এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। ছিলেন প্রতিবেশীরাও। কারও মুখে কোনও কথা নেই। সকলের চোখে জল, মুখে বিষাদের ছাপ। কোথাও যেন নেত্রীর এইটুকুনি আশ্বাসের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।
একসময় যে বাড়িতে আসিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠ যেন শেষ কথা ছিল সেই বাড়িতেই আজ শোকের ছায়া। বাড়ির অন্দরমহলে রয়েছে নিরবতা। শোকাহত পরিবারের কান্নায় যেন থমকে গিয়েছে চারিদিক।
জানা গিয়েছে, প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ বীরভূমের রামপুরহাটে তাঁর বাড়ির কাছের একটি পার্টি অফিস থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মিলেছে সুসাইড নোট। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনা আত্মহত্যার মনে হলে এই ঘটনার পেছনে কি রহস্য রয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।