কেয়া মণ্ডল:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে থাকা শান্তি আলোচনায় ফের গতি বড় পদক্ষেপ পাকিস্তানের। এবার তেহরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে তাঁর সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
এই সফর ঘিরে সবচেয়ে বেশি জল্পনা তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা নিয়ে। ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। সেই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং একইসঙ্গে ইরানের বক্তব্য মার্কিন নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মুনির মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের মধ্যে সংঘাতের অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কোনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। বরং হরমুজ প্রণালী, নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মতবিরোধ আরও বেড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তান যে ‘আন্তরিক প্রচেষ্টা’ চালিয়ে আসছে, তেহরান তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আসিম মুনিরের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও বাড়বে বলে আশা করছে ইরান।
অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তাদের নত করা যাবে না। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনার ক্ষেত্রে সম্মানজনক ও ন্যায্য সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথগুলির অন্যতম এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ এবং বাজারে। ফলে মুনিরের বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি হরমুজ পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আসিম মুনিরের তেহরান সফরকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের বার্তা, ইরানের অবস্থান এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনও সমঝোতার রাস্তা বের হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।