হাতে গোনা কয়েকটা দিন, তারপরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের শুরু হবে। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুর মর্দিনী শুনে সূচনা হয় বাঙালির দেবীপক্ষের। এই দিনটি পূর্বপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করার জন্য আদর্শ। শাস্ত্র মতে, পূর্বপুরুষকে জল দিলে পুণ্য লাভ হয়। কিন্ত, মহালয়া কি শুভ না অশুভ?
মহালয়া শব্দের অর্থ হল ‘মহান আলয়’ বা ‘মহান আশ্রয়’। হিন্দু পুরাণ মতে, এদিন দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে পিতৃগৃহে আগমন করেন। তাই মহালয়া মানেই মায়ের আগমন। একইসঙ্গে পিতৃপক্ষের অবসান। যাঁরা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন, তাঁরা মহালয়ার দিন সকাল সকাল সেটা সেরে নেন। মহালয়ার দিন মা দুর্গার চক্ষুদানের রীতিও রয়েছে।
তবে মহালয়ার দিন পিতৃ পুরুষদের উদ্দেশ্যে জলদান করার রীতিকে অনেকেই অশুভ বলে মনে করেন। আবার অনেকে মনে করেন, মাতৃপক্ষের সূচনা মানেই সব অশুভ শক্তির বিনাশ হয়। তাই মহালয়া শুভ। মাঝে মাত্র একদিন, তার পরেই মহালয়া। আর দেবীপক্ষের শুরু মানে পুজো শুরু। জ্যোতিষমতে, মহালয়ার দিনে কিছু নিয়ম মানা অত্যন্ত জরুরি। দেখে নিন এক নজরে
১) চুল, দাড়ি বা নখ কাটবেন না। এই তিথিতে চুল, দাড়ি বা নখ কাটা অশুভ মানা হয়।
২) মহালয়ার দিন গাড়ি বা বাইক কেনাও এড়িয়ে চলাই ভাল হবে। কাউকে ধার দেওয়ার বিষয়েও সাবধান থাকুন। এই দিনে টাকা বা অন্য কোনও জিনিস ধার দেওয়াকে অশুভ বলে মনে করা হয়।
৩) এই দিন বাড়িতে কোনও মাঙ্গলিক কাজ করবেন না। তবে রাস্তার কুকুর, পাখি বা অন্য কোনো অবলা প্রাণীকে এই দিন খাবার খাওয়ালে দারুণ পুণ্য হয়।
৪) নিরামিষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। এমনকি প্রয়াত প্রিয়জনদের ছবির সামনেও আমিষ খাবার দিতে বারণ করা হয়।
৫) মদ্যপান বা ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়। এই দিন ঘরবাড়ি কেনার কাজ এড়িয়ে চলাই ভাল।
কবে শুরু পুজো
আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠী তিথি শুরু। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস হবে শুক্রবার সন্ধ্যায়।
আগামী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর—নবপত্রিকা স্নান ও সপ্তমীর পুজো।
আগামী ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, অঞ্জলি, কুমারী পুজো ও সন্ধিপুজো।
আগামী ২০ অক্টোবর অষ্টমী, নবমীর পুজো ও হোম।
আগামী ২১ অক্টোবর দশমী, বিজয়া দশমী, সিঁদুর খেলা ও বিসর্জন।
