কেয়া মণ্ডল: সারাদিন কাজের পর ক্লান্তি আসাই স্বাভাবিক। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও যদি শরীর-মনে সবসময় অবসাদ থাকে, তাহলে শুধু ঘুমের অভাব বা মানসিক চাপকে দায়ী না করে নজর দিন প্রতিদিনের খাবারের অভ্যাসেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ অভ্যাস অজান্তেই শরীরের এনার্জি কমিয়ে দিতে পারে। একঝলকে জেনে নিন কিছু কারণ
১) বিস্কুট, মিষ্টি বা অন্য কোনও চিনিযুক্ত খাবার খেলে মুহূর্তের জন্য চাঙ্গা লাগতে পারে। কিন্তু এই এনার্জি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। বরং কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ক্লান্তি ফিরে আসতে পারে। তাই কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা ফাইবার রাখলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক ধীরে বাড়ে এবং এনার্জি স্থির থাকে।
২) দুপুরে ঝিমুনি আসার পিছনে শরীরের স্বাভাবিক কারণ রয়েছে। তবে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভারী খাবার এই অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দুপুরের খাবারে প্রোটিন, সবজি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভারসাম্য রাখা ভালো।
৩) কফি সাময়িকভাবে সতেজ করে। কিন্তু দিনের অনেকটা সময় পেরিয়ে কফি খেলে রাতে ঘুমের ক্ষতি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘুমের প্রায় ছয় ঘণ্টা আগেও বেশি পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ ঘুমের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। ফলে পরদিন আরও ক্লান্ত লাগতে পারে।
৪) রাতে অ্যালকোহল খেলে দ্রুত ঘুম চলে আসতে পারে। কিন্তু তা গভীর ও স্বাভাবিক ঘুমের বিকল্প নয়। ঘুমের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় ব্যাহত হওয়ায় সকালে পর্যাপ্ত সময় ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগতে পারে।
তবে খাবার, ক্যাফেইন গ্রহণের সময় ও ঘুমের রুটিন ঠিক করার পরও কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আয়রন ও ভিটামিন B12-এর ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যাও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির কারণ হতে পারে। তাই সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগলে শুধু আরও এক কাপ কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্কের দিকে না তাকিয়ে আগে নিজের দৈনন্দিন খাবারের অভ্যাসগুলিও খতিয়ে দেখুন।