নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে। শনিবার কলকাতার রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আচমকাই বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কবি জয় গোস্বামীকে সম্বর্ধনার মঞ্চ থেকে নেমে যেতে হয়। সেই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন। এই ঘটনায় তিনিও ‘অপমানিত’ হয়েছেন বলে দাবিও করেন লেখিকা।
এরপর রবিবার বাংলা অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তসলিমা নাসরিন।
নিজের নির্বাসনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, 'এক সরকার থাকতে দেয়নি, আবার এক সরকার তাঁকে ফিরতে দেয়নি। তবে এই সরকারের আমলে আবার কলকাতায়
ফিরতে পেরেছি।' তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনে নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নীতিতেই তিনি বিশ্বাসী।
তসলিমা নাসরিনের কথায়, 'রাজনৈতিক মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত। আমি বিশ্বাস করি বিজেপি মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে' সেই মাদ্রাস প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন,'অনেক ক্ষেত্রে মাদ্রাসায় জেহাদি তৈরি হয়'। শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ হয়। তাই এসব মাদ্রাসায় থাকা উচিত নয়। এর পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষেও সওয়াল করেন তসলিমা। তিনি জানান, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চাই। যে কোনও সভ্য দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রয়োজন। এক দেশ, এক আইন, সবার জন্য সমান আইন চাই।
বাংলাদেশে হিন্দু নারীদের অধিকার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তসলিমা। তাঁর অভিযোগ, ‘বহু ক্ষেত্রে হিন্দু নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন এবং বৈষম্যের শিকার হন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারতেও মুসলিম নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের মুখোমুখি হন। নারী-পুরুষের সমান অধিকারের দাবিতে তাঁর লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। ধর্ম থেকে রাষ্ট্র আলাদা হওয়া উচিত। সরকারের ধর্ম প্রচার করা উচিত নয়।’