ইউরোপ, নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে স্রেফ বিনোদন বা কৌতূহল মেটাতে পনির গড়ানো থেকে শুরু করে চড় মারার মতো নানা অদ্ভুত প্রতিযোগিতার আয়োজন নতুন কিছু নয়। তবে মধ্য ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরিতে সম্প্রতি আয়োজিত এক প্রতিযোগিতা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। কোনো লোকদেখানো তামাশা নয়, বরং মৃত্যুর মতো চরম সত্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি কঠিন ও অবহেলিত পেশার সম্মান ফেরাতে আয়োজন করা হয় জাতীয় কবর খনন প্রতিযোগিতা।
‘হাঙ্গেরিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব সিমেট্রি মেইনটেইনার্স অ্যান্ড অপারেটরস’-এর উদ্যোগে উত্তর হাঙ্গেরির ন্যের্গেসুজফালু শহরের একটি পাবলিক কবরস্থানে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল গোরখোদকদের জটিল কায়িক শ্রম ও দক্ষতাকে সমাজের সামনে তুলে ধরা, যাতে মৃত্যু ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়ে মানুষের মনে বাসা বেঁধে থাকা ভয় বা ট্যাবু কিছুটা হলেও দূর হয়।
প্রতিযোগিতায় মোট ১৯টি দলের হয়ে ৩৮ জন পেশাদার কর্মী অংশ নেন। প্রতিটি দুই সদস্যের দলকে কোদাল ও বেলচা হাতে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পাথরের মতো শক্ত শুকনো মাটি কেটে নির্ধারিত মাপের ০.৮ মিটার চওড়া, ২ মিটার লম্বা ও ১.৬ মিটার গভীর কবর খনন করতে হয়েছিল। কেবল দ্রুত গর্ত করলেই হতো না, মাটি তুলে নিখুঁত মাপ বজায় রাখা এবং পুনরায় মাটি ভরাট করে পরিচ্ছন্ন ঢিবি তৈরি করার মধ্য দিয়ে পুরো কাজের মূল্যায়ন করা হয়।
প্রচণ্ড ঘাম আর চরম শারীরিক পরীক্ষার পর মাত্র ১ ঘণ্টা ২১ মিনিটে নিখুঁতভাবে কাজটি সম্পন্ন করে চ্যাম্পিয়ন হন রবার্ট নাগি ও তাঁর সঙ্গী লাসলো। বিজয়ী জুটি প্রায় ৬৪০ ডলার নগদ পুরস্কার অর্জন করেন। বিজয়ীদের মতে, এই পেশায় নিখুঁত পরিমাপ বজায় রাখার পাশাপাশি সময়ের মূল্য অপরিসীম। যান্ত্রিক অগ্রগতির যুগে দাঁড়িয়ে কায়িক শ্রমের এমন মর্যাদাপূর্ণ উপস্থাপন শ্রমজীবী মানুষদের দক্ষতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।