কলকাতা: দুবাই মানেই ঝাঁ-চকচকে আকাশছোঁয়া বাড়ি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট আর কোটিপতিদের শহর—এমন ছবিই সাধারণত চোখে ভাসে। কিন্তু সেই ঝলমলে ছবির আড়ালে থাকা অন্য দুবাইয়ের একটি ঝলক সামনে এনেছেন এক ভারতীয় তরুণী। তাঁর দেখানো ঘরটির মাসিক ভাড়া প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ছোট্ট ঘর, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে শোয়ার জায়গা, নিচে নামলেই হাঁটাচলার জন্য অল্প একটু জায়গা।
ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ভারতীয় তরুণী কীর্তনা এল-এর পোস্ট করা ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, একটি সরু পথ পেরিয়ে ঢুকতে হচ্ছে ছোট্ট একটি ডুপ্লেক্স-ধাঁচের ঘরে। ঘরের উপরের অংশে রয়েছে বিছানা। নীচের অংশে কোনও মতে রাখা যায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। রয়েছে এয়ার কন্ডিশনারও। কিন্তু ঘরের আয়তন এতটাই কম যে একসঙ্গে বেশি জিনিস রাখার সুযোগ নেই। লাগেজ বা অন্যান্য সামগ্রী রাখার জায়গাও সীমিত।
তরুণীর দাবি, ঘরটির ভাড়া এক জন থাকলে মাসে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৩০০ দিরহাম, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৩ হাজার টাকা। দু’জন ভাগ করে থাকলে ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ দিরহাম, অর্থাৎ প্রায় ৩৬ থেকে ৩৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ দু’জন থাকলে মাথাপিছু খরচ কিছুটা কমে যায়।
এই ভিডিয়োই নতুন করে সামনে এনেছে দুবাইয়ের জীবনযাত্রার আর এক বাস্তবতা। বুর্জ খলিফার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে কর্মসূত্রে আসা বহু প্রবাসীর ভাগাভাগি করে থাকা ছোট ঘর, পার্টিশন এবং বেডস্পেস। যাঁদের আয় তুলনামূলক কম বা মাঝারি, তাঁদের ক্ষেত্রে বেতনের বড় অংশই চলে যেতে পারে বাড়িভাড়ায়।
ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গিয়েছে।
কেউ এমন ছোট জায়গায় থাকাকে ‘দমবন্ধ করা’ অভিজ্ঞতা বলে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ জানিয়েছেন, দুবাইয়ে নতুন কাজে আসা অনেক প্রবাসীই প্রথম দিকে বেডস্পেস বা ভাগ করে নেওয়া ঘরে থাকেন। কারও মতে, বিদেশের শহরে নতুন জীবন শুরু করার সময়ে এটাই অনেকের বাস্তবতা।
আসলে দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক শহরে জীবনযাত্রার খরচ এবং আয়ের মধ্যে ফারাকটাই এই ছবির মূল কথা। এক দিকে বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিপুল সম্ভাবনা, অন্য দিকে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও বড় খরচ। ফলে বিদেশে মোটা বেতনের চাকরির স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দেওয়া মানুষের কাছে ‘কত বেতন’ প্রশ্নটির পাশাপাশি ‘কত খরচে থাকা যাবে’, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।