ঝাড়খণ্ড, নিউজ ডেস্ক: বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের ডেরায় একযোগে বড়সড় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সোমবার সাতসকালে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি এবং ঝাড়খণ্ড এই তিন রাজ্যের মোট সাতটি ঠিকানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা একযোগে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে তৃণমূল সাংসদের নাগাল পান তদন্তকারীরা। বর্তমানে সেখানেই তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত আগস্ট মাসে নাদিমুলের বিরুদ্ধে বিধাননগর উত্তর থানায় বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আর্থিক নয়ছয় প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করে তদন্তে নামে ইডি।
গোয়েন্দাদের দাবি, নাদিমুল হক ডিরেক্টর পদে থাকা ‘আখবারে মাশরিক’ সংবাদপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। নামে-বেনামে চলা এই সমস্ত আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন আর্থিক কারবারের তথ্যপ্রমাণ হাতে আসতেই ময়দানে নামে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
কলকাতায় সোমবার সকাল ছ’টা নাগাদ নিউটাউনের সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অভিযানে বের হন ইডি আধিকারিকরা। পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টে জমায়েত করার পর সোজা হানা দেওয়া হয় ১২ নম্বর দরগা রোডে সাংসদের সংবাদপত্র অফিসে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে সেখানে শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি।
পাশাপাশি তাঁর বোন ও ভগ্নিপতির বাড়িতেও পৃথক একটি দল পৌঁছে যায়। একই সময়ে দিল্লিতে নাদিমুলের সাউথ অ্যাভিনিউয়ের সরকারি আবাসনেও চিরুনি তল্লাশি চালান আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, সাংসদ নিজে সেখানে না থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লি কার্যালয় হিসেবেই ব্যবহৃত হতো এই ফ্ল্যাটটি।
তৃণমূল সাংসদের ঠিকানায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অতর্কিত হানাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য কড়া আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ভালো তৃণমূল বা খারাপ তৃণমূল বলে পৃথক কিছু হয় না।
তৃণমূলের চরিত্রই হলো কুচকুচে সাদা আর ধবধবে কালো, এদের বিষয়ে যত কম কথা বলা যায় ততই ভালো। রাঁচিতে সাংসদের বয়ান নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ব্যাংক নথি খতিয়ে দেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন গোয়েন্দারা।