কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রাতে ঘুমের সময় আচমকা পা ঝিনঝিন ব্যথার মতো অস্বস্তি! পা দোলালে আরাম,থামলেই ফিরছে ব্যথা। এটা হতে পারে 'রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম' (RLS)। আসলে এটি স্নায়বিক বা নার্ভের সমস্যা। সাধারণত বসে বা শুয়ে বিশ্রামের সময় এবং রাতে সমস্যা বেশি বাড়ে। নিউরোসার্জনরা বলেন- 'নিয়মিত এমন উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।'
মস্তিষ্কের ডোপামিন ব্যবস্থা হঠাৎই বদলে গেলে, এবং একই সঙ্গে আয়রনের ঘাটতির ঘটলে RLS দেখা যায়। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে বংশগত প্রবণতাও দেখা যায়। এমনকি গর্ভাবস্থাতেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।বিশেষ কিছু রোগ যেমন, 'কিডনির রোগ', 'ডায়াবেটিস' এবং 'পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি'র মতো কিছু শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও দেখা যায় RFL। অনেক সময় ওষুধের কারণেও এই রোগের উপসর্গ দেখা যায়।তবে, এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হল পা নাড়ানোর ক্ষেত্রে অস্বস্তি। এর সঙ্গেই থাকে পায়ে ঝিনঝিন, টান, ব্যথা এবং সবথে যন্ত্রণাদায়ক- জ্বালাপোড়া!
ডাক্তাররা জানিয়েছেন- 'বিশ্রামে থাকলে বিশেষ করে রাতে, উপসর্গ বাড়ে। পা নাড়ানো বা হাঁটাহাঁটি করলে সাময়িক স্বস্তি মেলে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে ঘুমের ব্যাঘাতের কারণে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমভাব ও ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে।কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস এবং পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির মতো কিছু শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও RLS দেখা দিতে পারে। আবার কিছু ওষুধে এই উপসর্গ শুরু হতে পারে বা আগে থেকে থাকা সমস্যা আরও বাড়তে পারে।'
এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে- ১)নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ব্যায়ামের সঙ্গে পায়ের স্ট্রেচিং করা অবশ্যই দরকার। ২)ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ও ধূমপান কমানো অবশ্যই দরকার।৩) কোনও ওষুধ শুরু করেই যদি এই রোগ দেখতে পান,তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা করুন। মনে রাখবে, ওষুধপত্র কিন্তু নিজের খুশিমত বন্ধ করতে যাবেন না।
এই নিয়মগুলি ছাড়াও, শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে কিনা, তা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তাঁর পরামর্শ মেনেই রক্তপরীক্ষা বা অন্য কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিন।