ঝাড়খন্ড, নিউজ ডেস্ক: চার দেওয়ালের মধ্যে দিন কাটানো মানুষগুলির সামনে এবার খুলতে পারে অন্য এক দরজা। এবার সেই চেনা গণ্ডির বাইরে পা রাখার সুযোগ হতে পারে। তবে, বাইরে পা রাখার অর্থ সাজা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাইরে গিয়ে উপার্জন করা এবং তারপর ফের কারাগারের চৌহদ্দিতে ফিরে আসা। ঝাড়খণ্ডের কারা ব্যবস্থায় এমনই এক পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কৌতুহল।
কারাগারে বন্দিদের শুধুমাত্র শাস্তি দেওয়াই নয়, তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করাও কারা সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই ভাবনা থেকে ঝাড়খন্ডে নির্বাচিত বন্দীদের দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় জেলের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী যোগ্য বন্দীদের জেলের থেকে বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। সকালে কারাগার থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলে কাজ করার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের ফের জেলে ফিরতে হবে।
এই ব্যবস্থাই প্রত্যেক বন্দী সুযোগ পাবেন না। কারাপ্রশাসন একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা SOP তৈরি করেছে। জেলের ভিতরে যাদের আচরণ তুলনামূলক সন্তোষজনক এবং নিয়ম ভঙ্গের রেকর্ড নেই, তাঁদের মধ্যে থেকেই যোগ্য বন্দীদের বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, বাইরে গিয়ে কাজ করার অনুমতি পাওয়া বন্দীদের গতিবিধিও নজরদারির মধ্যে থাকবে। নিয়ম ভাঙ্গলে এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচিত বন্দীরা সকালে জেল থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলে যেতে পারবেন। তবে, ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের আবার জেলে ফিরতে হবে। অর্থাৎ দিনের সময় টা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলেও রাতের সময়ে সংশোধনাগারেই থাকতে হবে। এর ফলে বন্দীরা কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজের শ্রম ও মেধার দ্বারা আয়েরও সুযোগ পাবেন।
সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে ঝাড়খণ্ডের চারটি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি রয়েছে। রাঁচির বিরসা মুন্ডা সেন্ট্রাল জেল, পূর্ব সিংভূমের ঘাঘিডিহ সেন্ট্রাল জেল, হাজারীবাগের জয়প্রকাশ নারায়ণ সেন্ট্রাল জেল এবং দুমকা সেন্ট্রাল জেলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই জেলগুলিতে ওপেন ও সেমি ওপেন ব্যারাকের পরিকাঠামো তৈরীর কাজ এগোচ্ছে। কারাবিভাগের বক্তব্য, এই চারটি সংশোধনাগার শহরাঞ্চলে হওয়ায় বন্দীদের বাইরে কাজ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।
এছাড়াও এই উদ্যোগের আইনি ভিত্তিও রয়েছে। ২০২৫ সালে ঝাড়খন্ডে প্রিজন এন্ড কারেকশনাল সার্ভিসের অ্যাক্টে Open Correctional Institutions-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে, চূড়ান্তভাবে কারাবন্দিদের কিভাবে বাইরে কাজের অনুমতি দেওয়া হবে, তা SOP তে স্পষ্ট হবে। অর্থাৎ, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য বন্দীদের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে, তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করা।