গুজরাট, নিউজ ডেস্ক: একবিংশ শতকের ভারতেও ফিরে এল মধ্যযুগীয় ক্রীতদাস প্রথার নির্মম ছবি। মাত্র ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে দীর্ঘ চার বছর বন্দিদশায় দিন কাটানোর পর অবশেষে মুক্তি পেল এক কিশোর।
গুজরাটের পঞ্চমহল জেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই কিশোর-সহ আরও দুই নাবালককে উদ্ধার করেছে আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। আহমেদাবাদের হেবাতপুর এলাকা থেকে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় ১৪ বছর বয়সি এক কিশোর। ছেলের খোঁজে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তার মা। দীর্ঘ চার বছর পর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পঞ্চমহল জেলার গোধরার কাছে নাদিসার গ্রামে হানা দেয় তদন্তকারী দল। সেখান থেকেই মূল নিখোঁজ কিশোরের পাশাপাশি আরও দুই নাবালককে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চার বছর আগে দিনেশ ওড নামে এক শ্রম ঠিকাদার ওই নাবালককে অপহরণ করেছিল। পরে নাদিসার গ্রামের বাসিন্দা ভরত ভারওয়াড নামে এক পশুপালকের কাছে মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে বেচে দেওয়া হয়। ভরতের খামার ও বাড়িতে আটকে রেখে তাকে দিয়ে দিনরাত পশুর মতো খাটানো হত। জানা গিয়েছে, এই নরকযন্ত্রণা থেকে বাঁচতে কিশোরটি দু’বার পালানোর চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু ধরা পড়ে যাওয়ায় জুটত অমানুষিক মারধর এবং আরও কড়া নজরদারি।
ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত দিনেশ ও ভরতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সোলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে উদ্ধার হওয়া অন্য দুই নাবালকের বাড়ি নাদিসার ও ভাদোদরার ছানি এলাকায় হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের চিহ্নিত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে যার নিখোঁজ ডায়েরি দিয়ে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল, তার ফেরাটা আরও করুণ। এই দীর্ঘ চার বছরে কিশোরটির মা মারা গিয়েছেন এবং বাবা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত তাকে তার কাকার হেফাজতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।