নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: বাড়ির সামনে চলছিল হইচই। সঙ্গে দেদার মদ্যপানও। শব্দ কমাতে বলেছিলেন ৫৪ বছরের জনপ্রিয় মণিপুরি সঙ্গীতশিল্পী সি বিক্রম সিং। অভিযোগ, সেই আপত্তির জেরেই এক দল যুবকের হাতে বেধড়ক মার খেয়ে প্রাণ গেল তাঁর। দিল্লির কিলোকরি গ্রামের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি আটক করা হয়েছে এক নাবালককেও। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তেরা বিভিন্ন ধাবা ও খাবারের দোকানে কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার ভোরে কিলোকরি গ্রামের একটি আবাসনের বাইরে কয়েক জন ডেলিভারি কর্মী ও ধাবার কর্মী মদ্যপান করছিলেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন বলে অভিযোগ। দীর্ঘ দিন ওই এলাকায় বসবাসকারী বিক্রম তাঁদের এমন ভাবে গোলমাল না করার জন্য অনুরোধ করেন। অভিযোগ, সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক দল যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি ঘুষি ও মারধর করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিক্রম।
আঘাতের খবর পেয়ে তাঁর ছেলে ইয়াইফাবা দ্রুত বাবাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। খবর পেয়ে সানলাইট কলোনি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনায় ভরত কুমার (১৯), প্রমোদ (২৬), রমজান খান (২২), দীপাংশু (২১), মোহন বিশ্বকর্মা (৩২), বিজয় (৩৬) এবং মান্নুকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এক নাবালককেও আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিক্রমের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস সোসাইটি। সংগঠনের দাবি, বিক্রম ছিলেন মণিপুরের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সম্মানীয় সঙ্গীতশিল্পী। তাদের বক্তব্য, বাড়ির সামনে ছয় জনের একটি দল মদ্যপান করে গোলমাল করছিল। শব্দ কমানোর অনুরোধ করতেই বিক্রমের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটিকে ‘অর্থহীন হিংসা’ বলে উল্লেখ করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।