স্পোর্টস ডেস্ক: বয়স নিয়ে প্রতারণা একেবারেই বরদাস্ত করে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এ ব্যাপারে বিসিসিআইয়ের নীতি হল জিরো টলারেন্স। সে কারণেই অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে এ বার
বাংলার লেগ-স্পিনার রোহিত যাদবের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল বোর্ড। নথিতে বয়সের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় রোহিতকে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে দু’বছরের জন্য নিষিদ্ধও করেছে বোর্ড। রোহিতের জায়গায় ওয়ানডে দলে নেওয়া হয়েছে সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট সংস্থার আরিয়ান সাভসানিকে। অন্যদিকে লাল বলের ফরম্যাটে নেওয়া হয়েছে হরিয়ানার তন্ময় বালোডাকে। অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে রাজকোট ও আহমেদাবাদে আসন্ন ম্যাচগুলির জন্য রোহিত ভারতীয় দলে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বিসিসিআই জানিয়েছে, জুনিয়র ক্রিকেট কমিটি রোহিতকে দু’টি দল থেকেই প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বয়স নিয়ে তাঁর জমা দেওয়া সরকারি নথিপত্রে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বাংলার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং বিসিসিআইয়ের বয়স যাচাই সেল যৌথভাবে এই সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে বিষয়টি সামনে আনে। তদন্তে দেখা যায়, একাধিক জন্ম শংসাপত্রে তথ্যের মিল নেই। এমনকি আধার কার্ডেও বার বার জন্মসাল বদলানোর নজির রয়েছে। কোথাও ২০০৬, কোথাও ২০০৭, আবার কোনও নথিতে ২০০৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত জন্মসাল উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে রোহিতের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। শ্রীলঙ্কা সফরে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বল হাতে নজর কেড়েছিলেন এই লেগ-স্পিনার। একটি ম্যাচে ৬ উইকেটও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরে সেই সাফল্য আর তাঁকে দলে ধরে রাখতে পারেনি। বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বয়স সংক্রান্ত তথ্য গোপন বা বিকৃত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়। সেই নিয়মেই রোহিতকে দু’বছরের জন্য বিসিসিআই অনুমোদিত ঘরোয়া ও বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাসিত করা হয়েছে।
বয়স ভাঁড়ানো নিয়ে কড়া অবস্থানের বার্তাই এ বার স্পষ্ট করে দিল বিসিসিআই। বাংলায় বয়স সংক্রান্ত অসঙ্গতির অভিযোগে মোট ৬২ জন ক্রিকেটারকে সাসপেন্ড করার খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা বেড়েছিল। বোর্ডের এই পদক্ষেপে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলির উপরেও চাপ বাড়ল। জুনিয়র ক্রিকেটে প্রতিভার পাশাপাশি ক্রিকেটারদের বয়স ও পরিচয় সংক্রান্ত নথির স্বচ্ছতা যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, রোহিত-কাণ্ডে সেটিই আরও এক বার মনে করিয়ে দিল বিসিসিআই।