স্পোর্টস ডেস্ক: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক হিসেবে রজত পাতিদারকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে এক সময় চমকে গিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু দলের অন্দরমহলে সেই সিদ্ধান্তের পিছনে বড় ভূমিকা কার ছিল সেটাই সামনে এল এ বার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পাতিদার জানিয়েছেন, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়ার সময় তাঁর আদর্শ কোহলি তাঁকে যেভাবে সমর্থন করেছিলেন, তা তাঁর কাছে ছিল বিরাট প্রাপ্তি। পাতিদারের কথায়, ‘‘আপনার আদর্শ যদি আপনাকে সমর্থন করেন, তা হলে আর কারও সমর্থনের প্রয়োজন হয় না।’’
২০২৫ আইপিএলের মেগা নিলামের পর পাতিদারকে আরসিবির অধিনায়ক করা হয়েছিল। সেই সময় নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না তাঁর। ঘরোয়া ক্রিকেটে সদ্য নেতৃত্ব দেওয়া শুরু করেছিলেন তিনি। তার ওপর ড্রেসিংরুমে ছিলেন কোহলির মতো দলের সবচেয়ে বড় তারকা। ফলে পাতিদারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু কোহলি শুরু থেকেই তাঁর পাশে ছিলেন। পাতিদার জানিয়েছেন, মাঠে ব্যাট করার সময় থেকে শুরু করে মাঠের বাইরের জীবনযাপন, কোহলির প্রায় সব কিছুই তিনি খুঁটিয়ে লক্ষ্য করতেন। পরে জানতে পারেন, অধিনায়ক হওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও কোহলি তাঁকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছিলেন।
পাতিদারের কথায়, আরসিবির মতো দলের অধিনায়ক হওয়া মোটেই সহজ নয়। দলের বিপুল সমর্থক, প্রত্যাশার চাপ এবং কোহলির মতো কিংবদন্তির উপস্থিতির মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়া বড় পরীক্ষা। "ওঁকে (কোহলি) নিশ্চয়ই আমার মধ্যে কিছু একটা দেখতে হয়েছিল। কী দেখেছিলেন, জানি না। তবে দলের মধ্যে একজন ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক, দুই ভূমিকাতেই আমি ওঁর কাছ থেকে প্রচুর সমর্থন পেয়েছি,’’ বলেছেন পাতিদার। তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, কোহলির আস্থা তাঁর নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
তার পরের গল্পটা অবশ্য আরসিবি সমর্থকদের কাছে রূপকথার মতো। পাতিদারের নেতৃত্বেই ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৫ সালে প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জেতে বেঙ্গালুরু। ফাইনালে হারায় পাঞ্জাব কিংসকে। সেখানেই থামেনি সাফল্য। ২০২৬ মরশুমে আরও দাপটের সঙ্গে খেলে আরসিবি। কোয়ালিফায়ার ১ এবং ফাইনাল, দুই ম্যাচেই গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। পর পর দুই মরশুমে ট্রফি জেতায় আরসিবির বর্তমান দলটিকে মনে করা হচ্ছে আইপিএলের সর্বকালের অন্যতম সেরা দল। ফলে লক্ষ্য এখন আরও বড়। ২০২৭ সালে প্রথম দল হিসেবে টানা তিন বার আইপিএল জয়ের নজির গড়া।