কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রানওয়েতে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান। মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে গিয়ে ভেঙে পড়ে এই বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। গুরুতর আহত আরও ৫ জন। তাঁদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন মায়ামি ফায়ার চিফ রেইড জাদাল্লাহ। স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর ২টোর কিছু আগে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তার আগে পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মায়ামির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বিমানটি। অবতরণের সময় বিমানটি মাটিতে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতেও ধাক্কা মারে।
দুর্ঘটনার পরই বিমানবন্দরে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। বিমানটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যান দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা। প্রায় ২০০-রও বেশি দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে দুর্ঘটনাস্থলে এখনও জ্বালানি লিক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দমকল আধিকারিকেরা। বেশ কয়েক জন আহত যাত্রী গাড়ির ভিতরে বা গাড়ির নীচে আটকে পড়েছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের সেখান থেকে বার করে হাসপাতালে পাঠান। মায়ামি-ডেড কাউন্টির মেয়র ড্যানিয়েলা লেভিন কাভা বলেন, দুর্ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিল উদ্ধারকারী দল। ‘‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য মৃতদের পরিবার এবং আহতদের পাশে থাকা,’’ বলেন তিনি।
বিমানটি পরিচালনা করছিল নর্থ ক্যারোলিনার চার্টার সংস্থা ২১ এয়ার। মায়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যামাজনের কার্গো বিমানটি বিমানবন্দরের কিছুটা বাঁকানো রানওয়ে ধরে অবতরণ করার পর রানওয়ের নির্ধারিত অংশ পেরিয়ে যায় এবং উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে থামে। বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ের ব্যবহারযোগ্য অংশ ছাড়ার সময় বিমানের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২৯ মাইল বা ২০৭ কিলোমিটার। দুর্ঘটনার সময় মায়ামিতে হালকা বজ্রঝড়ের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে আবহাওয়াই দুর্ঘটনার কারণ কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করবে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি।
এ দিকে দুর্ঘটনার জেরে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িক ভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। একাধিক বিমান বাতিল এবং বহু উড়ান দেরিতে চলায় যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ। বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে। অনেক যাত্রীকে নতুন করে টিকিট বদলাতে হয়। কারও আবার মায়ামিতেই অতিরিক্ত রাত কাটানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আমেরিকায় লেবার ডে-র ছুটির সপ্তাহান্তে বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীসংখ্যা বছরের অন্যতম সর্বোচ্চ। মার্কিন পরিবহণ নিরাপত্তা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ছুটির আগের সপ্তাহে দেশের বিমানবন্দরগুলিতে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ যাত্রীর যাতায়াতের সম্ভাবনা ছিল। অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সংস্থাটি।