স্পোর্টস ডেস্ক: এক ডার্বির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ৪-১ ব্যবধানে মোহনবাগানকে উড়িয়ে ট্রফি জয়ের পর সোমবার কলকাতা লিগে আবার মেরিনার্সের সামনে ইস্টবেঙ্গল। বারাসাত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই প্রধান। কয়েক দিন আগের বড় হারের যন্ত্রণা ভুলে মোহনবাগান কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি ফের দেখা যাবে লাল-হলুদ দাপটই? ম্যাচের আগে এটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। সোমবার কাজের দিনের ডার্বি হলেও উত্তাপ যে একটুও কমছে না, তা বলাই বাহুল্য।
তবে চলতি বছরটা যেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে স্বপ্নের মতো। একের পর এক সাফল্যে লাল-হলুদ শিবিরে উৎসবের আবহ। আইএসএল এবং ডুরান্ড কাপ, দুই মঞ্চেই এসেছে সাফল্য। তার ওপর সদ্য ডুরান্ড ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে ৪-১ গোলে হারানোর স্মৃতি এখনও টাটকা। তবে ডার্বির ময়দানে অতীতের ফল দিয়ে নতুন ম্যাচের হিসাব মেলে না। কলকাতা লিগের লড়াইয়ে তাই নতুন করে শুরু করতে হবে দুই দলকেই। বিশেষ করে মোহনবাগানের কাছে এই ম্যাচটা হতে পারে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ।
সামগ্রিক কলকাতা ডার্বির পরিসংখ্যানেও ইস্টবেঙ্গল সামান্য এগিয়ে। দুই দলের মধ্যে মোট ৪১০টি ম্যাচের হিসাব ধরলে এখনও পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলের জয় ১৪৫টি। মোহনবাগানের জয় ১৩৫টি। এ ছাড়া ড্র হয়েছে ১৩০টি ম্যাচ। অর্থাৎ ব্যবধান খুব বেশি নয়। দীর্ঘ ইতিহাসের এই দ্বৈরথে প্রতিটি ম্যাচের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। সোমবারের লড়াইয়েও তাই পরিসংখ্যানের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে।
এ দিকে কলকাতা লিগের ইতিহাসেও ইস্টবেঙ্গলই কিছুটা এগিয়ে। এই প্রতিযোগিতায় দুই দলের মধ্যে আজ পর্যন্ত হয়েছে মোট ১৬১টি ম্যাচ। ইস্টবেঙ্গল জিতেছে ৫৫ বার, মোহনবাগান ৪৭ বার এবং ৫৯টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আবার এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে ৭টি ওয়াকওভারও। যার মধ্যে ইস্টবেঙ্গল পেয়েছে চারটি। মোহনবাগান তিনটি। উল্লেখ্য, কলকাতা লিগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ডার্বি হয়েছিল ১৯২৫ সালের ২৮ মে। নেপাল চক্রবর্তীর একমাত্র গোলে সে ম্যাচে ১-০ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রায় এক শতাব্দী পর সেই ঐতিহ্যেরই নতুন অধ্যায় লিখতে ফের বারাসাতে নামছে দুই প্রধান।