স্পোর্টস ডেস্ক: সপ্তাহান্তে নয়। একেবারে সোমবার, কাজের প্রথম দিনেই ডার্বি। তবু কলকাতা লিগের ইস্ট-মোহন দ্বৈরথকে ঘিরে চড়েছিল উত্তেজনার পারদ। কিন্তু বারাসাতের বিদ্যাসাগর স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের শেষে একতরফা হাসি হাসতে পারল না কোনও দলই। ১-১ ফলাফলে ড্র হয়ে গেল কলকাতা ডার্বি। যদিও সবুজ-মেরুন শিবিরের একাধিক সিনিয়র খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে লাল-হলুদ খুদেদের লড়াই গর্বিত করবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। দ্বিতীয়ার্ধে মহম্মদ বিলালের গোলে এ দিন হার বাঁচিয়ে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে এনেছে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব।
যদিও ডার্বি হলেও এটি ছিল কার্যত নিয়মরক্ষার ম্যাচ। চলতি কলকাতা লিগে সুপার সিক্সের টিকিট আগেই নিশ্চিত করে ফেলেছিল দুই প্রধান। তবে মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গল যেখানে মুখোমুখি সেখানে কি আর কোনও ম্যাচ গুরুত্বহীন হতে পারে? মাত্র কিছুদিন আগেই ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মশালের আগুনে ছারখার হয়ে গিয়েছিল পালতোলা নৌকো। এ দিন সেই অপমানের জবাব সুদে আসলে দেওয়ারও তাগিদ ছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। সেই মতো শুরুও করে তারা। প্রথম থেকেই বিপক্ষের চাপ তৈরি করে যাচ্ছিল সবুজ-মেরুন আক্রমণ। এর পর ৩৯ মিনিটে তারা এগিয়েও যায় মনবীরের গোলে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
শুভাশিস বোস, রাহুল ভেকে, আপুইয়া, মনবীর, সাহাল আবদুল সামাদের মতো অভিজ্ঞদের রেখেই এ দিন প্রথম একাদশ সাজিয়েছিল মোহনবাগান। তাদের সামনে প্রথমার্ধে একটাই বড় ভুল করে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। আর তারই শাস্তি দেন মনবীর। ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আসা বল অঙ্কনের পিছনে ফাঁকা জায়গায় পেয়ে যান তিনি। লাল-হলুদ গোলকিপার গৌরব সাউও তখন কিছুটা এগিয়ে। ফলে মনবীর সহজেই পরাস্ত করেন তাঁকে। ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় সবুজ-মেরুন বাহিনী। এ দিকে সিনিয়র দল থেকে কাউকেই এই ম্যাচে খেলায়নি ইস্টবেঙ্গল। গৌরব সাউ, মহম্মদ বিলাল, আকাশ হেমব্রমদের কাছে তাই এই ডার্বি ছিল নিজেদের প্রমাণ করার মঞ্চ। সেই কাজটাই তাঁরা করলেন দ্বিতীয়ার্ধে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই অবিশ্বাস্য রকম আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে অর্চিষ্মান বিশ্বাসের দল। প্রথম ২০ মিনিটেই একের পর এক সুযোগ। বিজয়ের শট শুভাশিসের গায়ে লেগে ফেরে। একবার মেহতাব কোনও রকমে আকাশকে আটকান। আবার বল লাগে বারে। অবশেষে ৬৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল হেড করে ম্যাচে সমতা ফেরান বিশাল। এর পর অবশ্য আবারও মরিয়া হয়েছিল মোহনবাগান। তবে তাদের আর পুনরায় এগিয়ে যেতে দেয়নি লাল-হলুদ রক্ষণভাগ। ৮৩ মিনিটে দুরন্ত সেভ করেন গৌরবও। ফলে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ১-১। সুপার সিক্সে আর ডার্বি নেই। দুই দলই খেলবে আরও তিনটি করে ম্যাচ। তবে এই ডার্বি নিয়মরক্ষার হলেও তরুণ ইস্টবেঙ্গলের আত্মবিশ্বাস যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা বলাই যায়।